বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফাকে ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে বিতর্ক। এবার প্রশ্ন উঠছে, আর্থিক লাভের আশায় কি নিজেদের নৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা? কারণ, আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফিফা একটি নতুন প্রেডিকশন মার্কেট বা বেটিং সংস্থা ‘এডিআই প্রেডিক্টস্ট্রিট’-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই নানা মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। কারণ, এই সংস্থার জন্ম হয়েছে খুব সম্প্রতি, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। এত অল্প সময়ের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চুক্তি কীভাবে সম্ভব হল, তা নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আরও আশ্চর্যের বিষয়, সংস্থাটির কোনও পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট বা কার্যকর ব্যবসায়িক কাঠামো এখনও দৃশ্যমান নয়। অথচ মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই জিব্রাল্টার থেকে বেটিং লাইসেন্স পেয়ে যায় তারা। জানা গিয়েছে, জিব্রাল্টারের অর্থমন্ত্রীর সুপারিশে এই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: পঞ্জাবকে টপকে শীর্ষে হায়দরাবাদ, ব্যর্থ কনোলির শতরান
ফলে পুরো বিষয়টিকে ঘিরে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিতর্ক আরও বেড়েছে সংস্থাটির সঙ্গে আবু ধাবির রাজপরিবারের যোগাযোগের খবর সামনে আসায়। সমালোচকদের মতে, ফিফা এমন একটি সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, যার অতীত, অভিজ্ঞতা কিংবা নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট ধারণা নেই। তাই অনেকে মনে করছেন, শুধুমাত্র বিপুল অর্থের লোভেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই প্রেডিকশন মার্কেট মূলত আমেরিকাকেন্দ্রিকভাবে কাজ করবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের ব্যবসাকে সরাসরি জুয়া হিসেবে ধরা হয় না। ফলে আইনের ফাঁক গলিয়ে সেখানে কার্যত বেটিং চালানো সম্ভব। কিন্তু একই সময়ে বিশ্বের বহু দেশে এই ধরনের প্রেডিকশন মার্কেট নিষিদ্ধ বা কড়া নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকবে। আর্জেন্তিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানির মতো ফুটবলপ্রধান দেশগুলিও এই বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্লে-অফের লড়াইয়ে আজ পঞ্জাবের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হায়দরাবাদ
তাই প্রশ্ন উঠছে, ফুটবলের মতো জনপ্রিয় খেলাকে কি ধীরে ধীরে জুয়ার সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত করা হচ্ছে? আমেরিকার বিভিন্ন প্রদেশেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি উঠেছে। অনেক প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, “প্রেডিকশন মার্কেট” নাম ব্যবহার করা হলেও এর প্রকৃতি আসলে জুয়ার মতোই। ফলে সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অনলাইন বেটিংয়ের প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুধু বেটিং নয়, বিশ্বকাপের টিকিটের অত্যধিক মূল্য নিয়েও ইতিমধ্যেই সমালোচনার মুখে ফিফা। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ম্যাচ দেখার খরচ। যদিও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে সাফাই দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকায় অন্যান্য বড় ক্রীড়া ইভেন্টেও অনেক বেশি দামে টিকিট বিক্রি হয়। তবে ফিফারই এক কর্তা স্বীকার করেছেন, এবারের ক্ষোভ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে টিকিটের মূল্য নির্ধারণে আরও সতর্ক হতে হবে।
সব মিলিয়ে ফিফার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, খেলাটির আবেগ ও মূল্যবোধের চেয়ে এখন আর্থিক দিককেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আর সেখানেই তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিতর্ক।




















