Home West Bengal গেরুয়া ঝড়ের মাঝেও ৩২-এ থামল তৃণমূলের জয়রথ

গেরুয়া ঝড়ের মাঝেও ৩২-এ থামল তৃণমূলের জয়রথ

nandigram-ranicheck-cooperative-election-tmc-victory-over-bjp
TMC’s Winning Streak Ends at 32 as Saffron Tide Sweeps Across

ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) সূত্রে সন্ধে সাতটার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী রাজ্যের মোট ৩২টি আসনে জয়ী হয়েছেন ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের প্রার্থীরা। বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেস (জোড়াফুল প্রতীক) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। নিচে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো।

- Advertisement -

উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত বিভিন্ন আসনে জোড়াফুল প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। সিতাই কেন্দ্র থেকে সঙ্গীতা রায় ২,৭২১ ভোটে জয়ী হয়েছেন। ইসলামপুরে কানাইয়া লাল আগরওয়াল ৪০,০৬৩ ভোটের বড় ব্যবধানে জয় পান, যা এই আসনে দলের শক্ত অবস্থানকে নির্দেশ করে। ইটাহারে মোশারফ হুসেন ২৭,৮৭৮ ভোটে জয়ী হন, যেখানে স্থানীয় সংগঠন ও প্রচারের প্রভাব স্পষ্ট।

   

মালদা ও মুর্শিদাবাদ অঞ্চলেও জোড়াফুলের প্রভাব দেখা গেছে। মোথাবাড়ি থেকে মহম্মদ নজরুল ইসলাম ১০,৪৯৬ ভোটে জয়ী হন, আর সুজাপুরে সাবিনা ইয়াসমিন বিপুল ৬০,২৮৭ ভোটে জয়লাভ করেন, যা এই নির্বাচনে অন্যতম বড় ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামশেরগঞ্জে মহম্মদ নুর আলম ৭,৫৮৭ ভোটে জয়ী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে এগিয়ে থাকেন। সাগরদিঘিতে বায়রন বিশ্বাস ৩৪,২৬০ ভোটে জয়ী হয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আসন ধরে রাখেন।

লালগোলায় আবদুল আজ়িজ ১৮,৯৬০ ভোটে জয়ী হন। কালীগঞ্জে আলিফা আহমেদ ১০,১৭২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তরুণ নেতৃত্বের উত্থানকে তুলে ধরেন। দক্ষিণবঙ্গের দিকে তাকালে দেখা যায়, কামারহাটিতে মদন মিত্র ৫,৬৪৬ ভোটে জয়ী হন, যা তুলনামূলক কম ব্যবধান হলেও আসন ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। হাড়োয়ায় আবদুল মাতিন মুহাম্মদ ৪৯,৩৪১ ভোটে জয়ী হয়ে বড় ব্যবধান তৈরি করেন।

মিনাখাঁ কেন্দ্র থেকে উষারানি মণ্ডল ৩২,২৯২ ভোটে জয়ী হয়েছেন। চন্ডীতলায় স্বাথী খান্ডেকর ১৯,৬৬৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে দলকে শক্ত ভিত দেন। কসবা থেকে জাভেদ খান ২০,৯৭৪ ভোটে জয়ী হন, যা শহুরে ভোটারদের মধ্যে দলের জনপ্রিয়তা বজায় থাকার ইঙ্গিত দেয়।

বালিগঞ্জ কেন্দ্রটি আবারও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ৬১,৪৭৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হন। এটি এই নির্বাচনের অন্যতম সর্বোচ্চ ব্যবধানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শেষদিকে চৌরঙ্গি আসনে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ২২,০০২ ভোটে জয়ী হয়ে শহরের কেন্দ্রে দলের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেন। সামগ্রিকভাবে এই ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে, বিভিন্ন অঞ্চল ও সম্প্রদায়ের মধ্যে জোড়াফুল প্রতীক ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। কোথাও বড় ব্যবধানে জয়, আবার কোথাও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের মধ্যেও এগিয়ে থাকার মাধ্যমে দলটি তাদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করেছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সমন্বিত সাফল্য এই নির্বাচনে তাদের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।

Follow on Google