Home West Bengal বাড়ি না ফিরেও নির্বাচনে লড়াই, ৪০ হাজার ভোটে চমক ফলতার CPIM প্রার্থী...

বাড়ি না ফিরেও নির্বাচনে লড়াই, ৪০ হাজার ভোটে চমক ফলতার CPIM প্রার্থী শম্ভুর

After Alleged Assault, CPI(M)’s Shambhu Kurmi Could Not Return Home for Seven Years in Falta
After Alleged Assault, CPI(M)’s Shambhu Kurmi Could Not Return Home for Seven Years in Falta

ফলতার সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল ঘিরে (CPIM in Falta) নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। অনেকেই এই ফলাফলকে দেখছেন এক ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে। বিশেষ করে “ডায়মন্ড হারবার মডেল” নিয়ে যে দীর্ঘদিনের প্রভাব ও আধিপত্যের কথা শোনা যাচ্ছিল, সেই সমীকরণ কি তবে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

- Advertisement -

এবারের পুনর্নির্বাচনে (CPIM in Falta) ফলতায় বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে পরিচিত থাকা রাজনৈতিক শিবির এবার তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। প্রায় এক দশক ধরে যিনি এই অঞ্চলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, সেই জাহাঙ্গীর খানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বলয়েরও এবার ধাক্কা লেগেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনেকেই এই ফলাফলের পর তাঁকে রাজনৈতিকভাবে “লাস্ট বয়” তকমা দিচ্ছেন।

   

তবে এই নির্বাচনের আরেকটি বড় চমক হল বামফ্রন্টের পুনরুত্থানের আভাস। দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা অবস্থায় থাকা সিপিএম এবার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে এবং ৪০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও এই ফলাফলকে তারা জয়ের সমান না ভাবলেও, ভবিষ্যতের জন্য এটিকে একটি “আশার আলো” হিসেবে দেখছেন দলের কর্মী-সমর্থকরা।

এই প্রেক্ষাপটেই উঠে এসেছে (CPIM in Falta) সিপিএম প্রার্থী শম্ভু কুর্মীর নাম। অনেকেই জানেন না, এই ভোটযুদ্ধে অংশ নেওয়া শম্ভু কুর্মী বাস্তবে গত সাত বছর ধরে নিজের বাড়িতে ফিরতে পারেননি। অভিযোগ, রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও বিরোধী গোষ্ঠীর চাপের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাড়িছাড়া জীবনযাপন করছেন।

শম্ভু কুর্মীর (CPIM in Falta) বাড়ি ফলতার ফতেপুরের মণ্ডলপাড়ায়। তবে বর্তমানে তিনি কিছুটা দূরের আমতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। সেখান থেকেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। প্রতিদিনই আমতলা থেকে ফতেপুরে যাতায়াত করে তিনি দলের কাজকর্ম ও নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন।

দলের সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় (CPIM in Falta) থেকেই তাঁর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। সেই সময় থেকেই তিনি আর স্থায়ীভাবে নিজের বাড়িতে ফিরতে পারেননি। রাজনৈতিক চাপ ও এলাকায় সংঘর্ষের আবহের কারণে তাঁকে নিরাপত্তার স্বার্থে অন্যত্র থাকতে হয় বলে দাবি করা হয়। তবে তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে কখনও নিজেকে সরিয়ে নেননি।

ফতেপুরে থাকা দলীয় কার্যালয়কেই তিনি কার্যত নিজের রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সেখানেই বসে নির্বাচনী কৌশল তৈরি, কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রচার কর্মসূচি পরিকল্পনা করেছেন তিনি। স্থানীয় কর্মীদের মতে, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁর সক্রিয়তা কমেনি, বরং আরও বেড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে এবারের ফলতা(CPIM in Falta) নির্বাচনের ফলাফল রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে বিজেপির জয়, অন্যদিকে বামেদের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা এই দুইয়ের মাঝেই নতুন করে সমীকরণ তৈরি হচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে।

Follow on Google