Home North East India মণিপুরে বড় সাফল্য! অসম রাইফেলসের হাতে গ্রেফতার কুকি জঙ্গি কমান্ডার টাইগার

মণিপুরে বড় সাফল্য! অসম রাইফেলসের হাতে গ্রেফতার কুকি জঙ্গি কমান্ডার টাইগার

manipur-ukna-militants-arrested-assam-rifles-operation

ইম্ফল: মণিপুরের দীর্ঘদিনের অশান্তিতে একটি বড় স্বস্তির খবর। (Manipur)অসম রাইফেলসের সদস্যরা সোমবার একটি সফল অভিযান চালিয়ে ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি (ইউকেএনএ)-এর তিনজন সশস্ত্র জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যাক্তিদের মধ্যে রয়েছে সংগঠনের সিনিয়র সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট (এসএস মেজর) নোকজাগিং ওরফে টাইগার। মণিপুর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ তদন্তে এই তিনজনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

- Advertisement -

নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চন্দেল জেলার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় জঙ্গিরা প্রাথমিকভাবে প্রতিরোধ করলেও অসম রাইফেলসের দক্ষতায় তাদের নিরাপদে আটক করা সম্ভব হয়। তাদের কাছ থেকে কিছু আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।এসএস মেজর নোকজাগিং ওরফে টাইগারকে মণিপুরের ২০২৩ সালের কয়েকটি নৃশংস ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে।

   

আরও দেখুনঃ ভোট-পরবর্তী হিংসা! কল্যাণীতে তৃণমূল পরিবারের যুবককে ‘পিটিয়ে খুন’, কাঠগড়ায় বিজেপি

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হল মেইতেই সম্প্রদায়ের দুই কিশোর-কিশোরী লিনথোইংগাম্বি ও হেমাঞ্জিতের নির্মম হত্যাকাণ্ড। ২০২৩ সালের সেই ঘটনায় দুই তরুণ-তরুণীকে অপহরণ করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই ঘটনা গোটা মণিপুরকে ক্ষোভে উত্তাল করে তুলেছিল। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের ওপর হামলা, কাঠুরে শ্রমিকদের হত্যা এবং রাস্তা-টাওয়ারে বোমা হামলার মতো একাধিক ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

মণিপুরের দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাতের মধ্যে ইউকেএনএ-র মতো সংগঠনগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। কুকি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী, সাধারণ নাগরিক এবং অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। লিনথোইংগাম্বি-হেমাঞ্জিত হত্যাকাণ্ডের পর মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। অনেক পরিবার এখনও সন্তান হারানোর বেদনায় কাতর।

এই গ্রেফতারকে তাঁরা অনেকটা স্বস্তি ও ন্যায়ের পথে এক ধাপ এগোনো হিসেবে দেখছেন।এক স্থানীয় মেইতেই যুবক বলেন, “আমাদের দুই ভাই-বোনকে যারা নির্মমভাবে খুন করেছে, তাদের একজনকে ধরা পড়ায় অন্তত মনে হচ্ছে বিচারের পথ খুলছে। কিন্তু এখনও অনেক অপরাধী ঘুরে বেড়াচ্ছে।” অন্যদিকে, কুকি সম্প্রদায়ের কিছু নেতা অবশ্য এই গ্রেফতারকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করছেন, যদিও নিরাপত্তা বাহিনী স্পষ্ট জানিয়েছে যে গ্রেফতার তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে হয়েছে।

Follow on Google