
কলকাতা: শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্ত করতে গিয়ে ধরা পড়েন উত্তর প্রদেশের রাজ সিং (Raj Singh)। CBI তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশও করে, কিন্তু তদন্ত চলাকালীন জানা যায় এই রাজ সিংকে ভুল করে গ্রেফতার করেছে উত্তর প্রদেশের পুলিশ। তাকে রাজকুমার সিংয়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছে পুলিশ এমনটাই দাবি করেছেন ছাড়া পাওয়া রাজ সিং।
#WATCH | Ballia, Uttar Pradesh: Raj Singh, arrested in Suvendu Adhikari PA Murder Case, released by CBI, says, “… I was wrongly arrested, mistaken with another Raj Kumar Singh. I had gone to Ayodhya with my mother for darshan. While coming back home, a police team arrested me.… pic.twitter.com/CfiP03I9Dj
— ANI (@ANI) May 21, 2026
মুক্তির পর রাজ সিংহ তাঁর ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলি বলেছেন। তিনি বলেছেন “আমি ভুল করে ধরা পড়েছিলাম। আমার নাম রাজ সিংহ, কিন্তু পুলিশ আমাকে আরেকজন রাজ কুমার সিংহের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে। আমি মায়ের সঙ্গে অযোধ্যায় দর্শনে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে পুলিশের একটি দল আমাকে গ্রেফতার করে। তারা কোনো প্রমাণ চায়নি, কোনো কথা শোনেনি। উল্টে এনকাউন্টারের ভয় দেখিয়ে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করার চেষ্টা করেছিল।”
আরও দেখুনঃ ভোটের পর থেকেই ‘নিখোঁজ’ মানস ভূঁইয়া, নিস্তব্ধ সবংয়ের প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ি
রাজ সিংহ আরও বলেন, পরে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সিআইডি তাঁর ওপর অমানুষিক অত্যাচার চালায়। “তারা আমাকে এমন একটা অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিল যা আমি করিনি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমাকে অপরাধী বানিয়ে ফেলা। কিন্তু সিবিআই যখন তদন্ত করল, তখন সত্যটা সামনে এল। আমি নির্দোষ প্রমাণিত হলাম।” তিনি সিবিআইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, “সিবিআই সত্যিকারের ন্যায়বিচার করেছে।
আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।” একইসঙ্গে তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে আবেদন করেছেন যে, যে পুলিশ কর্মীরা তাঁকে ভুল করে গ্রেফতার করে অত্যাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। রাজ সিংহের পরিবার বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বাবাও বিজেপির কর্মী ছিলেন। তিনি নিজেও ক্ষত্রিয় মহাসভার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু এই ঘটনার সময় কোনো সংগঠন তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
রাজ সিং জানিয়েছেন “প্রতি রাতে আমার ভয় হতো যে, কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও আমাকে আবার ভুল করে তুলে নিয়ে এনকাউন্টারে মেরে ফেলা হতে পারে। যে কেউ এই অবস্থায় পড়লে ভয় পাবে।”এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশের পুলিশ ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। ভুল পরিচয়ের ভিত্তিতে গ্রেফতার , এনকাউন্টারের হুমকি, অত্যাচার এসব অভিযোগ যদি সত্যি হয়, তাহলে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা কোথায়?













