কলকাতা: নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের বৈঠক ঘিরে চরমে উঠল সংঘাত। সোমবার কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার এবং মহিলাদের অসম্মান করার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
‘সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি বলে বাবুদের রাগ হয়েছে!’
এদিন কংগ্রেস, বিজেপি ও সিপিএম-এর পর তৃণমূলের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসে। দলে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম এবং প্রাক্তন আইপিএস রাজীব কুমার। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রিমা সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি বলে বাবুদের রাগ হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার আমায় বলছেন, চিৎকার করবেন না (ডোন্ট শাউট)। আমি একজন মহিলা, আমায় এভাবে বলতে পারেন নাকি! আমি ওঁকে বিনম্র ভাবেই বলেছিলাম, বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার কাড়া যাবে না।” ক্ষুব্ধ চন্দ্রিমা আরও যোগ করেন, “সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া কি অন্যায় হয়েছে নাকি! সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি, বেশ করেছি। মহিলাদের প্রতি ওঁর কোনও শ্রদ্ধা নেই। মহিলাদের ওপর চেঁচানো, দেখে নিচ্ছি আমরা।”
ভোটার তালিকা ও ‘SIR’ প্রসেস নিয়ে তোপ ফিরহাদের TMC accuses Gyanesh Kumar of misconduct
বৈঠকে মূলত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি নিয়েই সরব হয় রাজ্যের শাসকদল। মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “বিজেপি একটা ন্যারেটিভ তৈরি করেছে যে বাংলায় অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গা আছে। কিন্তু ২ মাসের এসআইআর (SIR) প্রসেসে তারা একটাও প্রমাণ করতে পারেনি।”
সাধারণ মানুষের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “এই প্রক্রিয়া করতে গিয়ে আপনারা ভারতীয় নাগরিকদের হেনস্থা করেছেন। হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছেন, অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, অসুস্থ হয়েছেন। দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমিকরা কাজ ফেলে নিজেদের ভারতীয় প্রমাণ করতে বাধ্য হয়েছেন। বিজেপি ঘুসপেটিয়া বলে নিরীহ মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে। আমরা কমিশনকে জানিয়েছি, কোনও ভারতীয় নাগরিক যেন তাঁর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন। এটা অসাংবিধানিক।”
ভোটের দফা নিয়ে জল্পনা
রাজ্যের ভোট প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে সরগরম আলোচনা হলেও, তৃণমূল ঠিক কত দফায় রাজ্যে ভোট চাইছে, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনও সুস্পষ্ট উত্তর দেননি শাসকদলের প্রতিনিধিরা।




















