ঢাকা: বাংলাদেশে সদ্য অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয়ের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)। কিন্তু তার এই ল্যান্ডস্লাইড জয়ের পরপরই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাচন ফলাফল ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিরোধী শিবির। বিশেষ করে জামাত-ই-ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের কর্মী-সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে নির্বাচনকে ‘চুরি করা ভোট’ বলে দাবি করছে।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে তারেক রহমানের জোট ২১২টি আসনে জয় পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই ফলাফলই তাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসার রাস্তা পরিষ্কার করে দেয়। তবে বিরোধী দল জামায়াত-ই-ইসলামী এই ফলাফল মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি, ভোট চুরি এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব হয়েছে।
আরও দেখুনঃ পূর্বাভাসকে সত্যি করে নামল বৃষ্টি, ভিজল একাধিক জেলা
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রথমদিকে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ভোটের অনিয়ম নিয়ে সরব হলেও পরে তিনি নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় যখন ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয় জামাত এবং তাদের সহযোগী দলগুলো। তারা অভিযোগ তোলে যে, নতুন সরকার ‘সংস্কার কাউন্সিল’-এ যোগ না দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অবজ্ঞা করেছে।
এই ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হতে শুরু করে। রাজধানীর শাহবাগ, মতিঝিল এবং পল্টন এলাকায় হাজার হাজার সমর্থক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। রাস্তাজুড়ে শোনা যায় স্লোগান “নির্বাচন চুরি, গণতন্ত্রের হত্যা।” পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের একাধিক জায়গায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে।
শুধু ঢাকাই নয়, দেশের অন্যান্য বড় শহরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম ও সিলেটেও বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আন্দোলন যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে তা আরও বড় রাজনৈতিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে।
জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, ভোটের দিন বহু কেন্দ্রে ভোটারদের ভয় দেখানো হয়েছে এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে কারচুপি করা হয়েছে। দলের মুখপাত্র মিয়া গোলাম পরবার দাবি করেছেন, “ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, ভোট চুরি হয়েছে এবং ইভিএম হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে।” পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।
অন্যদিকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে বিএনপি। তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানানো হয়েছে, এই ফলাফল জনগণের স্পষ্ট রায়। তাদের বক্তব্য, বিরোধীরা পরাজয় মেনে নিতে না পেরে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। সরকারপক্ষের দাবি, নতুন সরকার দেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সম্ভাব্য ভূমিকা। কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিরোধী শিবিরের সমর্থকদের মধ্যে ধারণা ছড়িয়েছে যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ থাকতে পারে। ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময়ও সিআইএ-র ভূমিকা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছিল। এবারও সেই একই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এই দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি।




















