কলকাতা: রঙের উৎসবের দিনেই চড়ল রাজনীতির পারদ! মঙ্গলবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুরে হাজির হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে দোল উৎসবে মেতে ওঠার পাশাপাশি তাঁর গলায় শোনা গেল কড়া রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বার্তা। আর এই সফরের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কি তবে ভবানীপুর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদ্ম-প্রার্থী হতে চলেছেন শুভেন্দু?
দোলের সকালে ভবানীপুরে শুভেন্দুর বার্তা
এদিন ভবানীপুরে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানান বিরোধী দলনেতা। তবে উৎসবের আবহের মাঝেই তাঁর মন্তব্যে উঠে আসে রাজনীতির প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “নাস্তিকতা নিপাত যাক, সেকুলারিজম নিপাত যাক। হিন্দুরা যাতে পশ্চিমবঙ্গে সুরক্ষিত থাকে, সেই প্রার্থনাই করব।” এরপরই তাঁকে ‘গোরা গোরা গৌরাঙ্গ’ গান গাইতে এবং ‘হিন্দু-হিন্দু ভাই-ভাই’ স্লোগান তুলতে দেখা যায় তাঁকে।
মুখ্যমন্ত্রীর গড়েই ‘ওয়ার রুম’, নিশানায় কি ভবানীপুর? Suvendu Adhikari in Bhabanipur
সাম্প্রতিক সময়ে ভবানীপুরে বিরোধী দলনেতার আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে এই এলাকায় তাঁর তৈরি করা একটি বিশেষ ‘ওয়ার রুম’। এলাকায় নিয়মিত রাজনৈতিক বৈঠক ও কর্মসূচি পালন করছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আসন্ন নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের ভবানীপুর থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রীর শক্ত ঘাঁটিতে সংগঠনের ভিত মজবুত করতে চাইছেন শুভেন্দু।
নন্দীগ্রামের ছায়া এবার ভবানীপুরে?
উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের চেনা কেন্দ্র ভবানীপুর ছেড়ে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে লড়াই করতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে পরাজিত হওয়ার পর, ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে সাংবিধানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বহাল থাকেন তিনি। এবার ২০২৬ সালের হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের আগে সেই ভবানীপুরকেই শুভেন্দু অধিকারী পাখির চোখ করায় রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।




















