কলকাতা: বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার এক কড়া নির্দেশিকা জারি করে নবান্ন জানিয়ে দিল, অবসর গ্রহণের পর পুনর্নিয়োগ পাওয়া বা মেয়াদের অতিরিক্ত সময় ধরে কর্মরত সমস্ত আধিকারিকদের কাজ থেকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন বোর্ড, সরকারি সংস্থা এবং অ-সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে চেয়ারপার্সন বা ডিরেক্টর পদে থাকা অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের ‘ছুটি’ হয়ে গেল। (Suvendu Adhikari bureaucratic reform)
পদত্যাগের প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ
রাজ্যের কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারি উদ্যোগ বা বিভিন্ন সংস্থায় মনোনীত সদস্য, ডিরেক্টর এবং চেয়ারপার্সন হিসেবে যাঁদের মেয়াদের পরেও রাখা হয়েছিল, তাঁদের পরিষেবা দ্রুত বাতিল করতে হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, আগের সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বহু অবসরপ্রাপ্ত আমলা বছরের পর বছর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকড়ে ছিলেন, এবার সেই প্রথা পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইছে শুভেন্দু সরকার।
‘কোনও অনুপ্রেরণা নয়, স্বাধীনভাবে কাজ করুন’
এদিন সব দফতরের সচিব ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে আমলাদের মনোবল ফেরানোর চেষ্টা করেন। শুভেন্দু জানান, তাঁর সরকার হবে ‘ফর দ্য পিপল’ বা মানুষের জন্য। সরকারি আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “উপরতলার কোনও ‘অনুপ্রেরণা’ নয়, আপনারা ফাইলে নিজেদের নিরপেক্ষ মতামত সরাসরি দিন। প্রশাসন চলবে নিয়মে।”
প্রশাসনিক সংস্কারের পথে বড় ধাপ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার সংকেত দিলেন। পুনর্নিয়োগ পাওয়া আধিকারিকদের সরিয়ে নতুন ও তরুণ আধিকারিকদের সুযোগ করে দেওয়া এবং আমলাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে উৎসাহ দেওয়া, এই দুই লক্ষ্যেই এদিনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।




















