
নয়াদিল্লি: ২০২৬ সালের শুরুতেই ভারতের নিরাপত্তা মহলে নতুন করে উদ্বেগ (Urban warfare)তৈরি করেছে সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলিতে বিপুল পরিমাণ আধুনিক ও ছোট আকারের মারাত্মক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের মাত্র প্রথম তিন মাসেই যে পরিমাণ হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে, তা গোটা ২০২৫ সালের মোট উদ্ধারের সংখ্যাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। শুধু গ্রেনেড নয়, পিস্তল, রকেট লঞ্চারের অংশ এবং অন্যান্য কমপ্যাক্ট ‘আরবান ওয়ারফেয়ার’ অস্ত্রও উদ্বেগজনক হারে উদ্ধার হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে ভারত-পাকিস্তান এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে। পাশাপাশি সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশও একাধিক অভিযান চালিয়ে একই ধরনের অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য বড় সতর্কবার্তা বহন করছে।
আরও দেখুনঃ লক্ষ ব্যবধানে হার, ৩৫ লক্ষ নাম বিবেচনায়’, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ কল্যাণ
গোয়েন্দা সূত্রের মতে, আগের তুলনায় এখন যে ধরনের অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে, তার প্রকৃতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। আগে বড় আগ্নেয়াস্ত্র বা ভারী বিস্ফোরক বেশি ধরা পড়লেও এখন ছোট, সহজে বহনযোগ্য এবং শহরের ভিতরে দ্রুত হামলা চালানোর উপযোগী অস্ত্র বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অস্ত্র মূলত “আরবান স্ট্রাইক” বা শহরকেন্দ্রিক হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কম সময়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর উদ্দেশ্যেই এই অস্ত্রগুলি তৈরি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ও সীমান্তপারের চোরাচালান চক্র এখন তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। বড় আকারের হামলার পরিবর্তে ছোট ছোট কিন্তু ভয়াবহ আঘাত হানার জন্যই এই কমপ্যাক্ট অস্ত্র ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। কারণ এই ধরনের অস্ত্র সহজে লুকিয়ে রাখা যায়, দ্রুত পাচার করা সম্ভব এবং শহরের ভিতরে নজর এড়িয়ে ব্যবহার করাও তুলনামূলক সহজ।
ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বড় উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে বিএসএফ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী। একইভাবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরা এলাকায় একাধিক অস্ত্র পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে এই অস্ত্র দেশে ঢোকানোর চেষ্টা চলছে বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
এদিকে রাজ্য পুলিশগুলিও সতর্কতা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বিভিন্ন শহরে সন্দেহভাজন নেটওয়ার্ক, স্লিপার সেল এবং অস্ত্র পাচারচক্রের উপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, শুধু সীমান্ত পাহারা দিলেই হবে না, শহরের ভিতরেও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ডিজিটাল নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।

