ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনাল মানেই আবেগ, উন্মাদনা আর ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ। কিন্তু সেই সুযোগ পেতে যদি গুনতে হয় ২১ কোটিরও বেশি টাকা, তাহলে অবাক হওয়াই স্বাভাবিক। সম্প্রতি বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে চলা বিশ্বকাপ ফাইনালের কিছু টিকিটের পুনঃবিক্রয়মূল্য আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। এমন দাম দেখে বিস্মিত গোটা ফুটবল দুনিয়া।
ফাইনালের জন্য সবচেয়ে আলোচনায় থাকা টিকিটগুলোর মধ্যে রয়েছে স্টেডিয়ামের লোয়ার ডেকের গোলপোস্টের পিছনের কিছু আসন। ১২৪ নম্বর ব্লকের ৪৫ নম্বর সারির ৩৩ থেকে ৩৬ নম্বর সিটের এক-একটি টিকিটের দাম উঠেছে প্রায় ২৩ লক্ষ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা দাঁড়ায় প্রায় ২১ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ চারটি টিকিট কিনতে গেলে খরচ হবে প্রায় ৮৬ কোটিরও বেশি টাকা। সাধারণ মানুষের কাছে এই সংখ্যা কল্পনারও বাইরে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, এত দাম কেন? আসলে এই টিকিটগুলি মূল বিক্রির নয়, পুনঃবিক্রয় বাজারে তোলা হয়েছে। অর্থাৎ যাঁরা আগে টিকিট কিনেছিলেন, তাঁরাই পরে বেশি দামে বিক্রির জন্য তুলেছেন। এই ক্ষেত্রে ফিফা সরাসরি টিকিটের দাম নির্ধারণ করে না। বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতেই দাম ওঠানামা করে। তবে জানা গেছে, ক্রেতা এবং বিক্রেতা—দুই পক্ষের কাছ থেকেই নির্দিষ্ট শতাংশ কমিশন নেওয়া হয়। ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচে দাম যে কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, তা অনুমান করাই যায়।
শুধু ওই কয়েকটি আসনই নয়, অন্য টিকিটগুলির দামও কম নয়। নিচের ডেকের ১৪৬ নম্বর ব্লকের একটি আসনের দাম উঠেছে ২ লক্ষ ৭ হাজার মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় টাকায় প্রায় ১ কোটি ৯৫ লক্ষ। আবার সবচেয়ে উপরের তৃতীয় ডেকের শেষ সারির একটি আসনের দামও ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ স্টেডিয়ামের দূরের সিটেও বসতে গেলেও কোটি টাকার কাছাকাছি খরচ করতে হচ্ছে।সবচেয়ে চমকে দেওয়ার বিষয়, পুনঃবিক্রয় সাইটে ফাইনালের সর্বনিম্ন টিকিটের দামও ছিল প্রায় ১০ হাজার ৯২৩ ডলার। ভারতীয় টাকায় সেটিও প্রায় ৯ লক্ষ টাকার বেশি।
ফলে বোঝাই যাচ্ছে, বিশ্বকাপ ফাইনাল এখন শুধুই খেলা নয়, এটি এক বিশাল বাণিজ্যিক আয়োজনও। বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখার স্বপ্ন কোটি কোটি মানুষের। কিন্তু এই দামে টিকিট বিক্রি হলে সেই স্বপ্ন বাস্তবে পূরণ করা সাধারণ সমর্থকদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। মাঠে বসে ম্যাচ দেখার সুযোগ তখন ধনী ও বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ফুটবলের মতো জনমানুষের খেলায় এমন মূল্যবৃদ্ধি তাই অনেকের কাছেই হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




















