নয়াদিল্লি: দেশের রাজনীতিতে ফের তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে আম আদমি পার্টি (AAP)-কে ঘিরে। একদিকে গুজরাটে বিজেপিকে হারানোর দাবি, অন্যদিকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের দলেই বড়সড় ভাঙনের খবর এই দুই বিপরীত ছবিই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ঘটনাকে ঘিরে কটাক্ষ, পাল্টা কটাক্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি।
বুধবার সকালে গুজরাটে একটি জনসভায় আপ নেতা মনীশ সিসোদিয়া দবি করেছিলেন, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টিকে “সম্পূর্ণভাবে মুছে দেওয়া হবে”। তাঁর বক্তব্য ছিল, সাধারণ মানুষ বিজেপির শাসনে ক্লান্ত এবং পরিবর্তনের খোঁজে রয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আপ বড় জয় পেতে চলেছে বলেই তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।
কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি দুপুরের মধ্যেই নাটকীয় মোড় নেয়। সংসদের রাজ্যসভায় আপের সাংসদ সংখ্যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। দুপুরেই রাঘব চাড্ডা আপ ছেড়ে বিজেপি যোগ দিয়েছেন। এছাড়াও দলের অন্তত সাতজন সাংসদ দল থেকে দূরত্ব তৈরি করেছেন বা পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা তীব্র আক্রমণ শানাতে শুরু করে।
আরও দেখুনঃ আদিবাসী তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তকরণ! বমাল সমেত গ্রেফতার নজমুল
বিশেষ করে আপের রাজ্যসভা সদস্য সঞ্জয় সিংকে নিয়েও কটাক্ষ শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নিজের দলের মধ্যেই ঐক্য ধরে রাখতে ব্যর্থ নেতৃত্ব কীভাবে অন্য রাজ্যে জয়ের স্বপ্ন দেখছে এই প্রশ্ন এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আপ একসময় রাজ্যসভায় ১০ জন সাংসদ নিয়ে যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই অবস্থানকে নড়বড়ে করে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দলীয় অন্দরের অসন্তোষ, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং কৌশলগত ভুল সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে আপ শিবির অবশ্য এই সমস্ত দাবিকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। দলের ভাঙনের যে ছবি তুলে ধরা হচ্ছে, তা বাস্তবের সঙ্গে মেলে না বলেই দাবি তাদের।




















