গুয়াহাটি: অসমের শ্রীভূমি জেলায় এক তরুণীকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে স্থানীয় এলাকায়। (woman conversion)অভিযোগ, একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত এক আদিবাসী তরুণীকে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান এক ব্যক্তি, যার নাম নাজমুল হক। ধীরে ধীরে বিশ্বাস অর্জনের পর তিনি ওই তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপুরায় চলে যান এবং সেখানে ধর্ম পরিবর্তন করিয়ে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীভূমির ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করার সময়ই নাজমুল হকের সঙ্গে পরিচয় হয় তরুণীর। অভিযোগ, তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে অন্য পরিচয়ে তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতায় পৌঁছায় এবং একসময় তিনি তরুণীকে রাজি করিয়ে নিজের সঙ্গে ত্রিপুরায় নিয়ে যান। সেখানেই নাকি তাঁকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয় এবং নতুন নাম দেওয়া হয় আয়েশা বেগম। পরের দিনই তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ।
আরও দেখুনঃ মহাকাশ থেকে উল্কা দেখতে কেমন লাগে? মহাকাশ স্টেশন থেকে দুর্লভ ছবি শেয়ার নাসা মহাকাশচারীর
এই খবর সামনে আসতেই শ্রীভূমি এবং আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা অভিযোগ করেন, তরুণীকে প্রতারণার মাধ্যমে ভিন্ন রাজ্যে নিয়ে গিয়ে জোর করে ধর্মান্তর ও বিয়ে করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বহু মানুষ একত্রিত হয়ে বজরিচেরা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, দ্রুত ওই তরুণীকে উদ্ধার করতে হবে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ প্রশাসনও তৎপর হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের চাপ এবং প্রতিবাদের মুখে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত নাজমুল হককে গ্রেফতার করা হয় এবং তরুণীকে উদ্ধার করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তরুণীর বয়ান এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি প্রতারণা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর বা অন্য কোনও অপরাধের আওতায় পড়ে কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত বেশি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বজায় রয়েছে। একদিকে যেমন স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে, অন্যদিকে প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়িয়েছে। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সমাজবিদদের মতে, এই ধরনের ঘটনায় আবেগ খুব দ্রুত উস্কে ওঠে এবং তা সামাজিক সম্প্রীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আনা এবং আইনের পথে পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। একই সঙ্গে গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে উত্তেজনা ছড়ানো থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




















