মুম্বই: আচমকাই বড়সড় নাটকীয় মোড় নিল টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ (T20 World Cup)। ভারতের বিরুদ্ধে গ্রুপ লিগের ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। যুব বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারের দিনই ইসলামাবাদ থেকে সরকারি বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়, টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান অংশ নিলেও ভারতের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ম্যাচে তারা মাঠে নামবে না। এই ঘোষণার পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা ও বিতর্ক।
তবে পাকিস্তান ম্যাচ না খেললেও ভারতীয় ক্রিকেট দল নিজেদের সূচিতে কোনও পরিবর্তন আনছে না। বিসিসিআই সূত্রে খবর, আইসিসির নিয়ম মেনেই টিম ইন্ডিয়া সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি যেদিন ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের গ্রুপ লিগের ম্যাচ নির্ধারিত ছিল, সেই সূচি অনুযায়ীই ভারতীয় দল শ্রীলঙ্কায় যাবে। শুধু তাই নয়, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুশীলনেও নামবেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব সহ গোটা দল।
আরও পড়ুন : অ্যাম্বুলেন্সে মাঠে ঢুকে ট্রফি হাতে মাঠ ছাড়লেন দীপ
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পাকিস্তানের প্রস্তাবেই এবারের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হাইব্রিড মডেলে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারত-পাক ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে করার রীতি নতুন নয়। এর আগেও এশিয়া কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ এই মডেলেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনের ঠিক আগে পাকিস্তান সরকারের এই বয়কটের ঘোষণায় পুরো টুর্নামেন্টের পরিকল্পনাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বিসিসিআই এবং আইসিসি সূত্রে জানা যাচ্ছে, পাকিস্তান মাঠে না নামলেও ভারতীয় দল আইসিসির সমস্ত প্রোটোকল মেনে চলবে। ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠক করা হবে, টসের সময় অনুযায়ী দল মাঠেও পৌঁছবে। রেফারি ও ম্যাচ অফিসিয়ালরা যতক্ষণ না আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করছেন, ততক্ষণ ভারতীয় ক্রিকেটাররা মাঠেই উপস্থিত থাকবেন। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী একতরফাভাবে ম্যাচে না নামলে সেই দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, এমনকি ম্যাচটি প্রতিপক্ষের অনুকূলে ঘোষণা করারও বিধান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়কটের পিছনে কেবল ক্রিকেট নয়, গভীর রাজনৈতিক বার্তাও লুকিয়ে আছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একাধিক ইস্যুতে পাকিস্তান চাপে রয়েছে। যুব বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারের পরপরই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেকেই মনে করছেন, ক্রিকেটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার করতে চাইছে ইসলামাবাদ। তবে এই সিদ্ধান্ত যে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানেরই ক্ষতি করতে পারে, সে বিষয়েও একমত ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।
অন্যদিকে ভারতীয় শিবির সম্পূর্ণভাবে পেশাদার মানসিকতা বজায় রেখেছে। বোর্ডের এক কর্তা জানান, “আমাদের কাজ ক্রিকেট খেলা এবং আইসিসির নিয়ম মেনে চলা। অন্য দেশ কী সিদ্ধান্ত নিল, সেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।” এই মনোভাবই আবারও প্রমাণ করে দিল, মাঠের বাইরের রাজনীতি নয়, খেলাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চায় টিম ইন্ডিয়া। এখন সব নজর আইসিসির দিকে। পাকিস্তানের এই বয়কটের পর তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই নির্ধারণ করবে গ্রুপ লিগের পয়েন্ট টেবিল থেকে শুরু করে টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ গতিপথ।




















