Final vs Argentina: বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেন শিবিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে আর্জেন্টিনার আগ্রাসী খেলার ধরন। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের একাধিক কড়া ট্যাকল এবং শারীরিক ফুটবল স্প্যানিশ শিবিরকে চিন্তায় ফেলেছে। স্পেনের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আয়মেরিক লাপোর্তে মনে করছেন, ফাইনালে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নির্ভর করবে রেফারির সিদ্ধান্তের উপর। তাঁর আশা, ম্যাচের শুরু থেকেই রেফারি কঠোর অবস্থান নিলে ফুটবল সুন্দর ও প্রতিযোগিতামূলক থাকবে।
লাপোর্তে বলেছেন, আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলায় তাঁর কোনও আপত্তি নেই। বড় ম্যাচে প্রতিটি দলই নিজেদের সেরাটা দিতে চায় এবং সেই লড়াইয়ে শারীরিক উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই আগ্রাসন যেন নিয়মের সীমা অতিক্রম না করে, সেটাই সবচেয়ে জরুরি। তাঁর মতে, সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কিছু ট্যাকল ছিল অত্যন্ত কঠোর, যা ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করেছে এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে অযথা উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করেছে।
স্পেনের এই ডিফেন্ডারের বিশ্বাস, এমন পরিস্থিতি এড়াতে ম্যাচ অফিসিয়ালদের শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। তিনি মনে করেন, একজন বা দু’জন ফুটবলারও যদি অতিরিক্ত শারীরিক ফুটবল খেলেন, তাহলে পুরো ম্যাচের পরিবেশ বদলে যেতে পারে। ফলে খেলার সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সংঘর্ষের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। তাই নিয়ম প্রয়োগে কোনও ধরনের শিথিলতা দেখানো উচিত নয়।
নিজেদের খেলার দর্শনের কথা তুলে ধরে লাপোর্তে জানান, স্পেন বরাবরই পরিচ্ছন্ন এবং নিয়ন্ত্রিত ফুটবলে বিশ্বাস করে। প্রতিপক্ষকে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা বা অপ্রয়োজনীয় ফাউলের মাধ্যমে ম্যাচের গতি নষ্ট করা তাদের পরিকল্পনার অংশ নয়। বলের দখল, দ্রুত পাস এবং কৌশলগত ফুটবলের উপরই তাদের সাফল্য নির্ভর করে। ফাইনালেও সেই একই মানসিকতা বজায় রাখতে চায় স্পেন।
তবে আর্জেন্টিনার খেলার ধরন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও লিয়োনেল মেসির প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথা জানাতে ভোলেননি লাপোর্তে। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই মেসির খেলা দেখে বড় হয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে মেসি বহু বছর ধরে ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দ দিয়েছেন। তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ও ধারাবাহিকতা সকলের কাছেই অনুপ্রেরণা। কিন্তু ফাইনালে ব্যক্তিগত আবেগের কোনও জায়গা নেই। লাপোর্তের স্পষ্ট বার্তা, মেসিকে সম্মান করলেও ট্রফি জয়ের স্বপ্ন স্পেনেরই।
লাপোর্তে আরও জানান, বিশ্বকাপ শুরুর আগে অনেকেই স্পেনকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখেননি। কিন্তু দলের ভিতরে আত্মবিশ্বাসের কোনও অভাব ছিল না। কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে প্রতিটি ফুটবলার বিশ্বাস করতেন, সঠিক পরিকল্পনা ও দলগত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে অনেক দূর যাওয়া সম্ভব। সেই বিশ্বাসের জোরেই তারা একের পর এক বাধা পেরিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে।
এখন লক্ষ্য একটাই বিশ্বকাপ জয়। লাপোর্তের মতে, এতটা পথ এসে শেষ ধাপে ব্যর্থ হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক হবে। তাই ফাইনালে নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলেই ট্রফি জয়ের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিতে প্রস্তুত স্পেন। তাঁর আশা, ম্যাচটি হবে সুন্দর, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং বিতর্কমুক্ত, যেখানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে ফুটবল, অপ্রয়োজনীয় ফাউল বা সংঘর্ষ নয়। দুই শক্তিশালী দলের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত যে দল ভালো ফুটবল খেলবে, তার হাতেই উঠুক বিশ্বকাপ এমনটাই প্রত্যাশা স্পেন শিবিরের।





