লস অ্যাঞ্জেলসের পড়ন্ত বিকেলে সবুজ গালিচা যেন হয়ে উঠেছিল এক সুবিশাল ক্যানভাস, আর স্প্যানিশ ফুটবলারদের পা ছুঁয়ে সেখানে জন্ম নিচ্ছিল নিখুঁত সব কবিতার পঙ্ক্তি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ((FIFA World Cup) ) রাউন্ড অফ ৩২-এর মঞ্চে অস্ট্রিয়ার যাবতীয় প্রতিরোধ এক লহমায় ভেঙে চুরমার করে দিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন। ৩-০ গোলের এক জাদুকরী জয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে তারা বুঝিয়ে দিল বর্তমান স্প্যানিশ ফুটবল মানে কেবল নতুন রূপকথা।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের পায়ে বল যেন কথা বলছিল। পেদ্রি আর লামিন ইয়ামালদের অনবদ্য পাসিংয়ের মায়াজালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়ে অস্ট্রিয়া। সেই প্রবল চাপের মুখেই ৩৬ মিনিটে ধসে পড়ে অস্ট্রিয়ান প্রাচীর। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে যেন এক দমকা হাওয়ার মতো ওভারল্যাপ করে উঠে আসেন মার্ক কুকুরেল্লা। তাঁর আলতো ছোঁয়ায় সাজিয়ে দেওয়া বলে নিখুঁত সমাপ্তি টানেন স্ট্রাইকার মিকেল ওয়ারজাবাল।
দ্বিতীয়ার্ধে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে মরিয়া অস্ট্রিয়ান কোচ রালফ রাংনিক চোট পাওয়া জ্যাভার শ্লেগারের বদলে ফ্লোরিয়ান গ্রিলিচ এবং আক্রমণের ধার বাড়াতে মার্কো আর্নাউতোভিচকে মাঠে নামান। কিন্তু স্প্যানিশ মিডফিল্ডের জমাট ব্লকের সামনে খেই হারিয়ে ফেলেন তাঁরা। উলটে ৬৬ মিনিটে স্পেনের দ্বিতীয় আঘাত। এবার অ্যালেক্স বায়েনার এক জাদুকরী থ্রু ধরে জোরালো শটে অস্ট্রিয়ার জালে বল জড়িয়ে স্প্যানিশ উৎসবের সুর বেঁধে দেন পেদ্রো পোরো।
শেষলগ্নে অস্ট্রিয়ার হতাশা যখন স্তেফান পশের হলুদ কার্ডে স্পষ্ট, স্পেন তখন খেলছে একেবারে রাজার মেজাজে। গাভি, ফেরান তোরেসদের বদলি হিসেবে নামিয়ে মাঝমাঠের দখল ধরে রাখার কাজ নিশ্চিত করেন স্প্যানিশ কোচ। ৮৯ মিনিটে লস অ্যাঞ্জেলস সাক্ষী থাকে সেই কুকুরেল্লা-ওয়ারজাবাল জুটির অন্তিম জাদুর! কুকুরেল্লার দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে অস্ট্রিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন ওয়ারজাবাল। রেফারি গ্লেন নাইবার্গের শেষ বাঁশি যেন নীরব এক বার্তাই দিয়ে গেল এবারের বিশ্বকাপে স্প্যানিশ শিল্পের এই মায়াবী প্রদর্শনী আরও দীর্ঘ হতে চলেছে।


