কিয়েভ: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে টানা প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া (Russia Ukraine War)। এই হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত এবং ৯০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ।
রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক দীর্ঘপাল্লার হামলায় রাশিয়ার তেল পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
রাতভর আতঙ্ক, মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের
হামলার সময় কিয়েভজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শহর। বিমান হামলার সতর্কতা জারি হওয়ার পর ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নেন।
বিস্ফোরণে বহু বহুতল আবাসনের অংশ ধসে পড়ে। দমকল ও উদ্ধারকারী দল সারাদিন ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের কাজ চালায়।
রাশিয়ার দাবি, সামরিক লক্ষ্যেই হামলা
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, হামলায় দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে অস্ত্র কারখানা, সামরিক বিমানঘাঁটি এবং জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, হামলা “শুধুমাত্র সামরিক বা সামরিক-সংযুক্ত লক্ষ্যবস্তুতে” চালানো হয়েছে।
তবে ইউক্রেনের অভিযোগ, হামলায় বহু আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৯৬টি ড্রোন ছোড়ার দাবি
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, এই হামলায় রাশিয়া মোট ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ড্রোন ব্যবহার করেছে।
যদিও ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহু ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন হওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
৩০টিরও বেশি এলাকায় ধ্বংস
কিয়েভ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শহরের ৩০টিরও বেশি স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০টি আবাসিক ভবন রয়েছে।
দেসনিয়ানস্কি জেলায় একটি নয়তলা ভবনে বহু বাসিন্দা আটকে পড়েন। অন্যদিকে দারনিতস্কি জেলায় একটি বহুতলের বড় অংশ ধসে পড়ে।
অন্য এলাকাতেও প্রাণহানি
ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও রুশ হামলায় ৭ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই পরিবারের আরও চারজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন ১১ বছরের কিশোরীও রয়েছে।
ইউক্রেনের পাল্টা হামলা
ইউক্রেন জানিয়েছে, একই রাতে তারা রাশিয়ার নিজনি নভগোরদ অঞ্চলের একটি বড় তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলে সিভেরস্কি দোনেৎস নদীর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতুতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর দাবি।
কূটনৈতিক উদ্যোগেও মিলছে না সমাধান
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে একাধিক আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
আগামী সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, রাষ্ট্রসংঘের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে ১৬ হাজারেরও বেশি সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই পক্ষ মিলিয়ে নিহত, আহত বা নিখোঁজ সেনার সংখ্যা ১৮ লক্ষ পর্যন্ত হতে পারে।


