বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: ভারত ও বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার প্রণব রায়কে (Pranab Roy) ঘিরে ফের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)-র অ্যাপেক্স কাউন্সিলের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন শ্যামল দাস নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, একটি কথিত ভুয়ো ক্লাবের নাম ব্যবহার করে কয়েক বছরের মধ্যে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং সেই ঘটনায় প্রণব রায়ের সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
১৩ পাতার অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে, গত বছর সিএবি ওম্বুডসম্যানের একটি নির্দেশে ‘মোহনলাল ক্লাব’-এর নাম উঠে আসে। সেখানে কলকাতার বাগবাজারের একটি ঠিকানার পাশাপাশি গৌরীবাড়ি এলাকায় একই নামে একটি অস্তিত্বহীন সংস্থার উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীর দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই ক্লাবের নামে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা তছরুপ হয়েছে। সেই অর্থ তোলার জন্য ব্যবহৃত একাধিক চেকে প্রণব রায়ের স্বাক্ষর রয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি চেক নম্বরও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
Read More: বিশ্বকাপের মাঝেই গাকপোর জীবনে শোকের ছায়া, গর্ভেই মারা গেল পুত্রসন্তান
অভিযোগকারীর দাবি, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় প্রণব রায়কে অবিলম্বে সিএবি-র সমস্ত কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি ওই ৪০ লক্ষ টাকার আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ অডিট করার আবেদনও জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগে এই ঘটনাকে জালিয়াতি ও প্রতারণা হিসেবে চিহ্নিত করে সিএবি-র পক্ষ থেকে এফআইআর দায়েরের দাবিও তোলা হয়েছে।
তবে এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন প্রণব রায়। তাঁর বক্তব্য, এই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তাঁর সামাজিক সম্মান ও পরিবারের মর্যাদাকে আঘাত করার জন্যই এই ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, তিনি মোহনলাল ক্লাবের কেবলমাত্র একজন সাধারণ সদস্য ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সময়ে ক্লাবের কোনও প্রশাসনিক পদে তিনি ছিলেন না। ফলে আর্থিক সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক ছিল না।
প্রণব আরও জানিয়েছেন, অভিযোগের বেশ কয়েকটি বিষয় ইতিমধ্যেই আদালতের বিচারাধীন। সেই কারণেই তিনি এখন বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না। তবে যাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তিনি সংরক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও প্রণব রায়কে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কিছুদিন আগে সিএবি কর্মী মনোজিৎ মৌলিকের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন তিনি। অভিযোগ ছিল, সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সম্পর্কে অপমানজনক ও কুরুচিকর পোস্ট করা হয়েছিল। সেই মামলায় আদালত নির্দেশ দেয়, অভিযুক্ত আর কোনও মানহানিকর পোস্ট করতে পারবেন না এবং পূর্বে করা সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্টও অবিলম্বে নিষ্ক্রিয় রাখতে হবে।
এরও আগে প্রবাদপ্রতিম ক্রিকেটার পঙ্কজ রায়ের জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করেও বিতর্কে জড়িয়েছিল সিএবি। প্রয়াত কিংবদন্তির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তাঁর ছেলে প্রণব রায়কে আমন্ত্রণ না জানানো নিয়ে বাংলা ক্রিকেট মহলে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন অভিযোগকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন বাংলার প্রাক্তন এই ক্রিকেটার। এখন সিএবি এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর ক্রিকেট মহলের।





