Bengal T20 League: মালদহকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পুরুলিয়া, শিরোপা লড়াইয়ে বড় বার্তা

পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা মালদহকে ৮ রানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল নোভাস রয়্যালস পুরুলিয়া। উজ্জ্বল মিথিলেশ দাস।

novas-royals-purulia-beat-malda-reach-bengal-t20-league-semifinal

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ইডেন গার্ডেন্সে বেঙ্গল টি২০ লিগের (Bengal T20 League) গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল নোভাস রয়্যালস পুরুলিয়া। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা সোবিসকো স্ম্যাশার্স মালদহকে ৮ রানে হারিয়ে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিল পুরুলিয়া। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ছিল টানটান উত্তেজনা, আর সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল পুরুলিয়ার ক্রিকেটাররা। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মালদহ। শুরুতে তাদের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে পুরুলিয়ার ব্যাটারদের চাপে রাখার চেষ্টা করেন। তবে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন যুবরাজ দীপক কেসোয়ানি। তিনি ৪০ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলে দলের ভিত গড়ে দেন। অন্যদিকে অধিনায়ক সুদীপ কুমার ঘরামি ২৩ রান করে মাঝের ওভারে দলের স্কোর এগিয়ে নিয়ে যান। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়লেও ছোট ছোট গুরুত্বপূর্ণ জুটির ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রান তোলে পুরুলিয়া।

মালদহের হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল, রমেশ প্রসাদ এবং প্রয়াস রায় বর্মণ। তিনজনই দুটি করে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে বড় স্কোর করতে দেননি। বিশেষ করে ডেথ ওভারে তাদের বোলিং পুরুলিয়াকে আরও বেশি রান সংগ্রহ থেকে আটকে দেয়। ১৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মালদহের শুরুটা আশানুরূপ হয়নি। পুরুলিয়ার বোলাররা প্রথম থেকেই নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেংথে বল করে রান তোলার গতি কমিয়ে দেন। মাঝের ওভারে প্রয়াস রায় বর্মণ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি ৩২ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও অন্য প্রান্ত থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন পাননি। ফলে প্রয়োজনীয় রানরেট ক্রমশ বেড়ে যায়।

   

মালদহের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেন মিথিলেশ দাস ও প্রদীপ্ত প্রামাণিক। দু’জনেই তিনটি করে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নিয়ে তারা মালদহকে বড় জুটি গড়ার সুযোগ দেননি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩১ রানেই থেমে যায় মালদহের ইনিংস। এই জয়ের ফলে পুরুলিয়া শুধু সেমিফাইনালে ওঠাই নিশ্চিত করল না, একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলোর কাছেও শক্ত বার্তা পাঠিয়ে দিল। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে শিরোপার দৌড়ে তারাও অন্যতম দাবিদার। অন্যদিকে হারলেও মালদহকে দ্রুত ভুল শুধরে নকআউট পর্বের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ মিথিলেশ দাস ম্যাচের পর বললেন “এই পুরস্কারটা অবশ্যই ভালো লাগার, কিন্তু আমি মনে করি এটা পুরো দলের সাফল্য। আমরা জানতাম মালদহ খুবই শক্তিশালী দল এবং তাদের ব্যাটিং লাইনআপও যথেষ্ট গভীর। তাই পরিকল্পনা ছিল শুরু থেকেই চাপ তৈরি করা। আমি শুধু অধিনায়কের পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করার চেষ্টা করেছি। উইকেট কিছুটা সাহায্য করছিল, তাই অফস্টাম্পের বাইরে নিয়ন্ত্রিত লাইন ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। যে তিনটি উইকেট পেয়েছি, তার কৃতিত্ব ফিল্ডারদেরও দিতে হবে। ওরা দারুণ সমর্থন করেছে। বিশেষ করে মাঝের ওভারে আমরা যেভাবে রান আটকে রাখতে পেরেছি, সেটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। ১৩৯ খুব বড় স্কোর ছিল না, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করতাম এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব। সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দ অবশ্যই রয়েছে, তবে আমাদের কাজ এখনও শেষ হয়নি। এখন লক্ষ্য একটাই—পরের ম্যাচেও একই আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমে দলকে ফাইনালে তোলা।”