বাংলায় হকি প্রতিভা তুলতে বড় পদক্ষেপ মোহনবাগানের

mohun-bagan-hockey-academy-plan-bengal-talent-development

কলকাতা: এবছরও কলকাতা (Kolkata) প্রিমিয়ার হকি লিগে ডার্বির রং সবুজ-মেরুনই রইল। ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহনবাগান (Mohun Bagan)। তবে ট্রফি জয়ের আনন্দের মাঝেই সামনে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বাংলার নিজস্ব হকি প্রতিভার অভাব। সেই সমস্যার সমাধান করতে এবার হকি অ্যাকাডেমি গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে মোহনবাগান কর্তৃপক্ষ।

সোমবার ক্লাব তাঁবুতে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের পর এই পরিকল্পনার কথা জানান ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্ত এবং সচিব সৃঞ্জয় বোস। তাঁদের বক্তব্য, শুধুমাত্র বাইরে থেকে খেলোয়াড় এনে দল গড়লে দীর্ঘমেয়াদে বাংলার হকির উন্নতি সম্ভব নয়। স্থানীয় প্রতিভা তুলে আনতে হলে এখনই সংগঠিত উদ্যোগ নিতে হবে।

   

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের হকি স্টেডিয়ামে হওয়া ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল মোহনবাগান। সবুজ-মেরুনের হয়ে গোল করেন অভ্রান সুদেব, অর্জুন শর্মা এবং মহম্মদ রাহিল। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন প্রতাপ লাকরা। এই জয়ের ফলে টানা দ্বিতীয়বার এবং গত তিন বছরে দ্বিতীয়বার কলকাতা প্রিমিয়ার হকি লিগের শিরোপা জিতল মোহনবাগান। তবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি ক্লাব কর্তারা বুঝতে পারছেন, বাংলা হকির ভিত এখনও দুর্বল। কলকাতা লিগে অংশ নেওয়া বড় দুই দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই রাজ্যের বাইরের।

ফলে স্থানীয় ছেলেরা সুযোগ পাচ্ছে কম, আর ভবিষ্যতের জন্যও তৈরি হচ্ছে না পর্যাপ্ত প্রতিভা। এই কারণেই হকি অ্যাকাডেমি তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে মোহনবাগান। সভাপতি দেবাশিস দত্ত বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলার হকিতে কিছু উন্নতি হয়েছে। আগে ঘাসের মাঠে খেলা হলেও এখন অ্যাস্ট্রোটার্ফে প্রতিযোগিতা হচ্ছে, যা আধুনিক হকির জন্য জরুরি। কিন্তু শুধু পরিকাঠামো বাড়ালেই হবে না, বাংলা থেকে খেলোয়াড় তৈরি করাও সমান প্রয়োজন। তাঁর কথায়, “মোহনবাগান যদি এই দায়িত্ব না নেয়, তাহলে আর কে নেবে?”

ক্লাব সচিব সৃঞ্জয় বোস জানান, অ্যাকাডেমি গড়ার বিষয়ে আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। খুব শীঘ্রই বিষয়টি চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। তিনি মনে করেন, হকিকে এগিয়ে নিতে হলে অ্যাকাডেমি ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। কারণ বাইরে থেকে খেলোয়াড় আনতে বিপুল খরচ হয়, কিন্তু নিজের রাজ্য থেকে প্রতিভা তুলে আনতে পারলে দলও শক্তিশালী হবে, ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হবে। সচিব আরও বলেন, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ডার্বি মানেই আলাদা উত্তেজনা। ফুটবলের মতো হকিতেও এই ম্যাচ মানুষকে আকর্ষণ করে।

সভাপতি দেবাশিস দত্তও একই সুরে বলেন, কলকাতার হকি এখনও বেঁচে আছে মূলত এই দুই ক্লাবের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্যই। তিনি ইস্টবেঙ্গলকেও ধন্যবাদ জানান শক্তিশালী দল গড়ে ফাইনালে ওঠার জন্য। সব মিলিয়ে, এবারের শিরোপা জয়ের পাশাপাশি আরও বড় লক্ষ্য নিয়েছে মোহনবাগান—বাংলা হকির ভবিষ্যৎ গড়া। যদি এই অ্যাকাডেমি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে আগামী দিনে বাংলার মাটিতেই নতুন প্রতিভার জন্ম হতে পারে।