FIFA World Cup: ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছে এক স্বপ্নের ফাইনালের জন্য। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে এই ফাইনালকে আরও বিশেষ করে তুলেছে লিওনেল মেসি এবং লামিনে ইয়ামালের অবিশ্বাস্য এক গল্প।
২০০৭ সালে বার্সেলোনার একটি বিশেষ ফটোশুটে মাত্র পাঁচ মাসের শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে স্নান করাচ্ছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি। সেই সময় মেসির বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর, আর তিনি ধীরে ধীরে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠছিলেন। প্রায় দুই দশক পরে সেই ছোট্ট শিশুই আজ স্পেনের জার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে নামছেন। ভাগ্যের এমন অদ্ভুত পরিহাস ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই ম্যাচকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক ও দুই নম্বর দল আর্জেন্টিনা ও স্পেনের এই লড়াইকে অনেকেই সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ ফাইনাল হিসেবে দেখছেন। কাগজে-কলমে স্পেনকে সামান্য এগিয়ে রাখা হলেও মাঠের লড়াই যে সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে চলেছে, তা বলাই যায়।
আর্জেন্টিনার লক্ষ্য টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয় এবং ইতিহাসে চতুর্থ শিরোপা ঘরে তোলা। ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেন সময়কে হার মানিয়ে খেলছেন। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, আর পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তিনি দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। সাত ম্যাচে আটটি গোলের পাশাপাশি চারটি গোল করিয়েছেন সতীর্থদের দিয়ে। দলের আক্রমণের মূল ভরসা এখনও তিনিই।
তবে আর্জেন্টিনা শুধু মেসির উপর নির্ভর করে নেই। লাউতারো মার্টিনেজ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজও নিজের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা একের পর এক কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শেষ মুহূর্তে মেসির দুটি দুর্দান্ত অ্যাসিস্টে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। সাত ম্যাচের সাতটিতেই জয় পেয়ে তারা অপরাজিত অবস্থায় ফাইনালে উঠেছে।
অন্যদিকে স্পেনের শক্তি তাদের দুর্ভেদ্য রক্ষণ। পুরো বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা। ছয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলশূন্য রেখে বিশ্বকাপের ইতিহাসেই এক অনন্য নজির গড়েছে স্প্যানিশরা। আয়মেরিক লাপোর্তে, রদ্রি এবং পাউ কুবার্সির নেতৃত্বে স্পেনের ডিফেন্স প্রায় অভেদ্য প্রাচীর হয়ে উঠেছে।
আক্রমণভাগে লামিনে ইয়ামাল স্পেনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। চোটের সমস্যা থাকলেও তিনি ফাইনালে খেলবেন বলেই আশা করা হচ্ছে। তাঁর পাশাপাশি পেদ্রো পোরোর দিকেও নজর থাকবে। স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। এর আগে ২০১০ সালে তারা প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল। এবারের আসরে তারা ছয়টি জয় ও একটি ড্র নিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে।
এই ফাইনালের আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে অনুষ্ঠিত হবে হাফটাইম শো। সেই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা, বিটিএস এবং শাকিরার মতো আন্তর্জাতিক তারকারা। ফলে ফুটবলের পাশাপাশি সংগীতপ্রেমীদের কাছেও এই ম্যাচ হয়ে উঠতে চলেছে এক অনন্য উৎসব।





