
বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ইডেন গার্ডেন্সে আজ যেন অন্য আবহ। কাগজে-কলমে এটি কলকাতা নাইট রাইডার্সের ঘরের মাঠের ম্যাচ হলেও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে তারা নয়। গোটা আলোচনার কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে রাজস্থান রয়্যালস এবং বিশেষ করে তরুণ সেনসেশন বৈভব সূর্যবংশী। রবিবার দুপুরের ম্যাচ ঘিরে টিকিটের চাহিদা কিছুটা বাড়লেও সেই আগ্রহের বড় অংশটাই নাইটদের জন্য নয়, বরং বৈভবকে একঝলক দেখার আশায়। ইডেনের গ্যালারিতে আজ কলকাতার চেয়ে জয়পুর বা পাটনার আবহও তৈরি হতে পারে।
শনিবার বিকেলে আমেদাবাদ থেকে কলকাতায় ফিরেছে কেকেআর দল। ফলে আলাদা করে অনুশীলনের সুযোগও পায়নি তারা। তবে অনুশীলনের অভাবের চেয়েও বড় সমস্যা দলের মানসিক অবস্থা। ছয় ম্যাচে এখনও জয়হীন নাইটরা, বৃষ্টির কারণে পাওয়া একটি পয়েন্টই তাদের একমাত্র সান্ত্বনা। এই পরিস্থিতিতে ঘরের মাঠে নামলেও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি স্পষ্ট। দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, প্রায় প্রতিটি বিভাগেই সমস্যা রয়েছে। ওপেনিং জুটি ধারাবাহিক নয়, মিডল অর্ডার ব্যর্থ, ফিনিশাররা রান পাচ্ছেন না, বোলিং আক্রমণেও ধার কম। অধিনায়কত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেক সমর্থকের মতে, বর্তমান নেতৃত্বে দল এগোতে পারছে না। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার অজিঙ্কা রাহানের জায়গা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। নেতৃত্বে না থাকলে প্রথম একাদশে তাঁর জায়গা কতটা নিশ্চিত, সেই প্রশ্নও উঠছে।
ভাইস-ক্যাপ্টেন রিঙ্কু সিংয়ের ফর্মও চিন্তার কারণ। শেষ তিন ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৪, ৬ এবং ১ রান। যে রিঙ্কুকে একসময় দলের বড় ম্যাচ ফিনিশার হিসেবে ধরা হত, তিনি এখন ছন্দের বাইরে। ফলে তাঁকে দলে রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রাহুল ত্রিপাঠির মতো ক্রিকেটারদেরও যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে ক্ষোভ রয়েছে সমর্থকদের মধ্যে। এই অবস্থায় নেতৃত্বে বদলের কথাও উঠছে। রিঙ্কু যদি নিজে ফর্মে না থাকেন, তবে তিনিও স্বাভাবিক বিকল্প নন। সেই জায়গায় অভিজ্ঞ সুনীল নারিন বা ক্যামেরন গ্রিনের নামও সামনে আসছে। অতীতে মরশুমের মাঝপথে অধিনায়ক বদলের নজির রয়েছে কেকেআরে। তাই এবারও তেমন সিদ্ধান্ত নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
আরেকটি বড় প্রশ্ন, তরুণদের কেন সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। যখন প্লে-অফে ওঠার রাস্তা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে, তখন ভবিষ্যতের কথা ভেবে নতুন মুখদের খেলানোই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন অনেকে। রাজস্থান যেমন সাহস করে বৈভব সূর্যবংশীর মতো তরুণকে সুযোগ দিয়েছে, তেমন ঝুঁকি নিতে পারছে না কেকেআর। রাজস্থান শিবিরে অবশ্য আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। দলের মেন্টর কুমার সাঙ্গাকারা জানিয়েছেন, বৈভবকে স্বাধীনভাবে খেলতে দেওয়া হবে এবং খেলা উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই ইতিবাচক মানসিকতাই এখন তাদের বড় শক্তি। অন্যদিকে নাইট শিবিরে এখন আনন্দ নয়, শুধু চাপ আর হতাশা। তবু ক্রিকেটে প্রতিটি ম্যাচ নতুন সুযোগ। তাই বিধ্বস্ত অবস্থাতেও আজ প্রথম জয়ের আশায় মাঠে নামবে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ইডেনে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই আজ তাদের সামনে।

