“গ্যালারি ফাঁকাই থাকবে”! কেরালা ব্লাস্টার্সকে হুঁশিয়ারি সমর্থকদের

তিরুঅনন্তপুরম: ভারতের ফুটবল মহলে বড়সড় আলোড়ন ফেলে দিল কেরালা ব্লাস্টার্স-এর (Kerala Blasters) সবচেয়ে বড় সমর্থক গোষ্ঠী মাঞ্জাপ্পাডা। চলতি ইন্ডিয়ান সুপার লিগ মরশুমে দলের বাকি সব…

kerala-blasters-fans-boycott-manjappada-empty-stands-isl

তিরুঅনন্তপুরম: ভারতের ফুটবল মহলে বড়সড় আলোড়ন ফেলে দিল কেরালা ব্লাস্টার্স-এর (Kerala Blasters) সবচেয়ে বড় সমর্থক গোষ্ঠী মাঞ্জাপ্পাডা। চলতি ইন্ডিয়ান সুপার লিগ মরশুমে দলের বাকি সব ম্যাচ বয়কট করার ঘোষণা করেছে তারা। এই সিদ্ধান্ত শুধু ক্লাব নয়, গোটা লিগের পরিবেশেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। দিল্লিতে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি-র বিরুদ্ধে কেরালা ব্লাস্টার্সের অ্যাওয়ে ম্যাচের আগের দিনই এই ঘোষণা আসে।

যদিও অ্যাওয়ে ম্যাচে এই বয়কটের প্রভাব খুব একটা চোখে পড়বে না, তবে কোচির ঘরের মাঠে এর প্রভাব যে প্রবল হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বিশেষ করে ১৫ এপ্রিল নর্থইস্ট ইউনাইটেড-এর বিরুদ্ধে ম্যাচ থেকেই তার বড় প্রভাব দেখা যেতে পারে। এপ্রিল মাসে ব্লাস্টার্সের আরও একাধিক ঘরের ম্যাচ রয়েছে—যেখানে গ্যালারিতে মাঞ্জাপ্পাডার অনুপস্থিতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়বে।

   

মাঞ্জাপ্পাডা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা স্টেডিয়াম থেকে তাদের সমস্ত ব্যানার, পতাকা, সাউন্ড সিস্টেম এবং অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নেবে। শুধু তাই নয়, ম্যাচের টিকিট বিক্রি বা বিতরণ প্রক্রিয়াতেও তারা কোনওভাবে যুক্ত থাকবে না। অর্থাৎ, মাঠে যেমন তাদের দেখা যাবে না, তেমনই মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ড থেকেও নিজেদের সম্পূর্ণ সরিয়ে নিচ্ছে এই সমর্থক গোষ্ঠী। উল্লেখযোগ্য বিষয়, কয়েকদিন আগেই কোচির জওহরলাল নেহরু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে হংকংয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের ম্যাচে এই মাঞ্জাপ্পাডাই দুর্দান্ত সমর্থন জুগিয়েছিল। সেই উচ্ছ্বাসের রেশ কাটতে না কাটতেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেকেই বিস্মিত।

এই বয়কটের মূল কারণ দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্স এবং ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রতি সমর্থকদের ক্ষোভ। চলতি মরশুমে এখনও পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেনি কেরালা ব্লাস্টার্স। ছয়টি ম্যাচে মাত্র একটি পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের তলানিতে রয়েছে। এই খারাপ পারফরম্যান্সের জেরেই আন্তর্জাতিক বিরতির সময় প্রধান কোচ ডেভিড কাতালা-কে সরিয়ে দেয় ক্লাব। তাঁর পরিবর্তে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অ্যাশলি ওয়েস্টউড-কে।

তবে মাঞ্জাপ্পাডার দাবি, শুধু কোচ বদল করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ক্লাব পরিচালনায় দীর্ঘদিন ধরে যে অসন্তোষ জমে রয়েছে, তারই বহিঃপ্রকাশ এই বয়কট। তাদের বক্তব্য, “আমাদের এই অনুপস্থিতি একটি স্পষ্ট বার্তা। আমরা আর চুপচাপ সমর্থন করে যেতে রাজি নই, যখন আমাদের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।”

তারা আরও জানিয়েছে, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায় তারা। ক্লাব যদি সমর্থকদের সম্মান দেয়, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং বাস্তব পদক্ষেপ নেয়, তবেই তারা আবার মাঠে ফিরবে। ততদিন পর্যন্ত এই বয়কট চলবে। সব মিলিয়ে, কেরালা ব্লাস্টার্সের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে মাঠের পারফরম্যান্স উন্নত করা, অন্যদিকে নিজেদের সবচেয়ে বড় শক্তি, সমর্থকদের আস্থা ফেরানো। এই সংকট কীভাবে সামাল দেয় ক্লাব, এখন সেটাই দেখার।