সাউদাম্পটনের যানজটে দেরি, পিছোল ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচের টস

তীব্র যানজটে নির্ধারিত সময়ে স্টেডিয়ামে পৌঁছতে পারেনি ভারতীয় দল। ফলে ভারত-ইংল্যান্ড টি-২০ ম্যাচের টস ও খেলা শুরু দুটিই পিছিয়ে দেওয়া হয়।

IND vs ENG-t20-southampton-toss-delayed-traffic

বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: সাউদাম্পটনে ভারত-ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি(IND vs ENG) সিরিজের শেষ ম্যাচ শুরুর আগেই তৈরি হল এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। মাঠের লড়াইয়ের বদলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল শহরের তীব্র যানজট। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের পথ অতিক্রম করতে ভারতীয় দলের বাসের লেগে গেল এক ঘণ্টারও বেশি সময়। ফলে নির্ধারিত সময়ে স্টেডিয়ামে পৌঁছতে পারেননি ক্রিকেটাররা, যার প্রভাব পড়ে ম্যাচের আনুষ্ঠানিক সূচির উপরও।

ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় টস হওয়ার কথা থাকলেও তখনও দলটি ছিল পথে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪৫ মিনিট পরে টস অনুষ্ঠিত হয়। মাঠে পৌঁছনোর পর টসে জিতে ভারত অধিনায়ক প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরে ম্যাচের শুরুর সময়ও পিছিয়ে দেওয়া হয়, যাতে দুই দল যথাযথ প্রস্তুতির সুযোগ পায়।এ

Also Read | ছাংতেকে নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল মুম্বাই

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহান্ত হওয়ায় সকাল থেকেই সাউদাম্পটনের বিভিন্ন রাস্তায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। শহরের প্রধান সড়কগুলিতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়, ফলে অল্প দূরত্ব পেরোতেও অস্বাভাবিক সময় লেগে যায়। আন্তর্জাতিক ম্যাচের দিনেও পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে আয়োজকদের পরিকল্পনা ও সমন্বয় নিয়ে।

এই ঘটনার মধ্যেই ভারতীয় দলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নজর কেড়েছে। তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী, যিনি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ অভিষিক্ত ক্রিকেটার হয়েছিলেন, এদিন একাদশে জায়গা পাননি। অভিষেকের পর টানা তিন ম্যাচে সুযোগ পেলেও তিনি প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেননি। তাই দলীয় সমীকরণে পরিবর্তন এনে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তরুণ এই ক্রিকেটারের সামনে অবশ্য এখনও দীর্ঘ পথ পড়ে রয়েছে, এবং ভবিষ্যতে তিনি আরও পরিণত হয়ে ফিরবেন বলেই আশা সমর্থকদের।

Also Read | মোহনবাগানের পথেই ছাংতে, ঘোষণার অপেক্ষায় সমর্থকরা

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইংল্যান্ডে এমন ঘটনা এই প্রথম নয়। গত দুই বছরের মধ্যেই আরেকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ একই কারণে বিলম্বিত হয়েছিল। সে বারও যাতায়াতজনিত সমস্যার জন্য নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বড় ক্রীড়া আসরের দিনে দর্শক ও খেলোয়াড়দের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত কি না।

ক্রিকেটের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে সময়ানুবর্তিতা ও সুপরিকল্পিত আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি, সম্প্রচার সূচি এবং দর্শকদের অভিজ্ঞতা—সবকিছুর সঙ্গেই এর যোগ রয়েছে। সাউদাম্পটনের এই ঘটনা তাই কেবল একটি ম্যাচের দেরিতে শুরু হওয়ার ঘটনা নয়; বরং ভবিষ্যতের জন্য আয়োজকদের কাছে একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবেই ধরা দিচ্ছে।