ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং সম্প্রতি রাজনৈতিক দলবদলের পর নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। আম আদমি পার্টি ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই পাঞ্জাবের রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শনিবার তাঁর জলন্ধরের বাসভবনের সামনে আম আদমি পার্টির একদল কর্মী ও সমর্থক বিক্ষোভ দেখান। সেই ঘটনার পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে হরভজন সিংয়ের নিরাপত্তায় এবার থেকে সিআরপিএফ জওয়ান মোতায়েন করা হবে। দিল্লি এবং পাঞ্জাবে তাঁর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর আগে তাঁর সুরক্ষার দায়িত্বে ছিল পাঞ্জাব পুলিশ। তবে তিনি আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর পাঞ্জাব সরকার সেই নিরাপত্তা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গিয়েছে।
শনিবার জলন্ধরে তাঁর বাড়ির বাইরে যে বিক্ষোভ হয়, সেখানে আপ কর্মী-সমর্থকদের ক্ষোভ স্পষ্ট দেখা যায়। শুধু প্রতিবাদই নয়, হরভজনের বাড়ির বাইরের দেওয়ালে ‘গদ্দার’ লিখে দেওয়া হয়। দলত্যাগের ঘটনায় যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পরই কেন্দ্র দ্রুত পদক্ষেপ করে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, হরভজন সিং একা নন।
দীর্ঘদিন আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর রাঘব চাড্ডাও শুক্রবার দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর সঙ্গে আরও ছয়জন আপ সাংসদ গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান। সেই তালিকায় অন্যতম পরিচিত মুখ হরভজন সিং। একসঙ্গে এতজন সাংসদের দলত্যাগে আপ শিবিরে চাপ বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছেন হরিয়ানার আপের প্রাক্তন রাজ্যসভাপতি নবীন জয়হিন্দ। তিনি দাবি করেছেন, পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টির সরকার সংকটে পড়তে পারে। তাঁর বক্তব্য, দলের ভিতরে ব্যাপক অসন্তোষ জমেছে এবং ২৮ জন বিধায়ক দল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যাঁরা ইতিমধ্যেই দল ছেড়েছেন, তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এমনকি কয়েকজনকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে তাঁর দাবি।
জয়হিন্দের এই বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে আসতেই পাঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। যদিও আম আদমি পার্টির পক্ষ থেকে এখনও এই দাবির কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে হরভজন সিংয়ের দলবদল যে শুধু একজন প্রাক্তন ক্রিকেটারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং তা পাঞ্জাবের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা স্পষ্ট। আগামী দিনে আপ শিবিরে আরও ভাঙন দেখা যায় কি না, এখন সেটাই দেখার।




















