বাবান আদক, কলকাতা: ফুটবল মাঠে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার আগে যে কোনও কিছুই শেষ নয়! সদ্য বিশ্বকাপে (FIFA World Cup) ইংল্যান্ড এবং বেলজিয়াম দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থেকেও শেষলগ্নে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নিল, তা ফের প্রমাণ করল ফুটবলের এই অমোঘ সত্য। খাদের কিনারা থেকে খড়কুটো আঁকড়ে ধরে ফিনিক্স পাখির মতো এই উত্থানগুলোই ফুটবলকে মোহময়ী করে তোলে।
ইংল্যান্ডের কঙ্গো বধ যেন ফিরিয়ে আনল তিন দশক আগের স্মৃতি। ৭৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও হ্যারি কেনের জোড়া গোলে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্স। ঠিক যেমনটা ঘটেছিল ১৯৯০-এর কোয়ার্টার ফাইনালে! ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে পিছিয়ে থাকার পর, ৮৩ মিনিটে গ্যারি লিনেকারের পেনাল্টিতে সমতা এবং অতিরিক্ত সময়ে তাঁরই গোলে জিতেছিল ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে একেবারে শেষলগ্নে খাদের কিনারা থেকে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার এমন আরও কিছু জ্বলন্ত উদাহরণ রয়েছে:
১৯৯৪ (ইতালি ২-১ নাইজেরিয়া): প্রি-কোয়ার্টারে নাইজেরিয়া ২৫ মিনিটেই এগিয়ে যায়। ৮৮ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে রবার্তো বাজ্জিওর জাদুতে সমতা ফেরায় ইতালি। এরপর অতিরিক্ত সময়ে (১০২’) পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে জেতান সেই বাজ্জিও।
২০০২ (দক্ষিণ কোরিয়া ২-১ ইতালি): প্রি-কোয়ার্টারে ইতালি ১৮ মিনিটেই এগিয়ে যায়। ৮৮ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকার পর সিওল কি হিউন সমতা ফেরান এবং ১১৭ মিনিটে আহন জুং হোয়ানের ঐতিহাসিক ‘গোল্ডেন গোল’ রূপকথার জন্ম দেয়।
২০১৪ (নেদারল্যান্ডস ২-১ মেক্সিকো): ৮৮ মিনিট পর্যন্ত ডাচরা ০-১ গোলে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু ৮৮ মিনিটে স্নাইডারের শটে সমতা এবং ৯৪ মিনিটে হান্টেলারের স্পটকিক মেক্সিকোর স্বপ্ন চিরতরে ভেঙে দেয়! বিখ্যাত “No era penal” বিতর্ক এই ম্যাচেরই।
২০১৮ (বেলজিয়াম ৩-২ জাপান): ৫২ মিনিটের মধ্যেই ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়ে বেলজিয়াম! ৬৯ ও ৭৪ মিনিটে সমতা ফেরানোর পর, ৯৪ মিনিটে নাসের শাদলির গোল যা বিশ্বকাপের সেরা কাউন্টার অ্যাটাকগুলোর একটি হয়ে অমর হয়ে আছে।
স্নায়ুর চূড়ান্ত চাপকে জয় করার এই মরিয়া লড়াই বারবার মনে করিয়ে দেয় যতক্ষণ শ্বাস, ফুটবলে ততক্ষণই আশ!


