বাবান আদক, কলকাতা: মোহনবাগান ছেড়ে চেন্নাইন এফসিতে যোগ দিলেন গ্লেন মার্টিন্স। গত মরশুমে আইএসএল-এর পরিসংখ্যানের দিকে চোখ রাখলেই বিষয়টা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়। তারকাসমৃদ্ধ সবুজ মেরুন মাঝমাঠে গ্লেনের জায়গা ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছিল। প্রথম একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাওয়া এই গোয়ান মিডফিল্ডারের জন্য কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই জন্যেই কলকাতা ছেড়ে চেন্নাইয়ে পাড়ি দিলেন তিনি।
গ্লেন মূলত একজন ‘ডেস্ট্রয়ার’ বা রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, যাঁর প্রাথমিক কাজ বিপক্ষের আক্রমণ নষ্ট করা এবং মাঝমাঠের দখল নেওয়া। তাঁর ওয়ার্ক রেট এবং ট্যাকেল করার ক্ষিপ্রতা বরাবরই কোচদের ভরসা জুগিয়েছে। কিন্তু মোহনবাগানের বর্তমান পাসিং নির্ভর মিডফিল্ডারদের ভিড়ে তাঁর উপযোগিতা ক্রমশ কমছিল। রিজার্ভ বেঞ্চে বসে সময় নষ্ট করার চেয়ে তাই কেরিয়ারের স্বার্থে দলবদলের এই কঠিন কিন্তু বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতেই হতো গ্লেনকে।
অন্যদিকে, এই ট্রান্সফারটি চেন্নাইন এফসি এবং তাদের হেড কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্ডার কাছে কার্যত ‘মাস্টারস্ট্রোক’। মিরান্ডার সিস্টেমে ঠিক এমনই একজন পরিশ্রমী সেন্ট্রাল ব্লকারের প্রয়োজন ছিল। দুই বারের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইন গত কয়েক মরসুম ধরে মাঝমাঠের দুর্বলতায় ভুগেছে। পরিসংখ্যান বলছে, বল রিকভারি এবং ইন্টারসেপশনে মার্টিন্সের সাফল্যের হার ভারতীয় ফুটবলে যথেষ্ট প্রশংসনীয়। চেন্নাইনের মাঝমাঠে বিপক্ষের আক্রমণ রুখে দিয়ে ডিফেন্সকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য গ্লেনের মতো একজন ‘বক্স-টু-বক্স’ ওয়ার্কহর্স আদর্শ নির্বাচন।
সব মিলিয়ে, দুই পক্ষের জন্যই এই দলবদল এক নিখুঁত কৌশলগত চাল। মোহনবাগান যেমন তাদের স্কোয়াড ব্যালেন্স ঠিক রাখল, তেমনই গ্লেন পেলেন তাঁর হারানো ‘গেম টাইম’ ফিরে পাওয়ার সুযোগ। আগামী মরশুমে ব্লু জার্সিতে গ্লেনের এই নতুন লড়াই ভারতীয় ফুটবলের ট্যাকটিকাল বোর্ডে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





