World Cup: নীল সাদা বাহিনীর নজিরবিহীন তাণ্ডব, তদন্তে FIFA

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই ফুটবল দুনিয়া সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন কলঙ্কের। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের (World Cup) মেগা ফাইনালে স্পেনের…

argentina-spain-world-cup-final-post-match-brawl-paredes-red-card-scaloni

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই ফুটবল দুনিয়া সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন কলঙ্কের। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের (World Cup) মেগা ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু হারের যন্ত্রণাকে ছাপিয়ে খবরের শিরোনামে চলে এল নীল সাদা শিবিরের ফুটবলারদের চরম অসংযম ও মাঠের ভেতরের হাতাহাতি। স্প্যানিশ ফুটবলারদের লক্ষ্য করে কিল-চড়-ঘুষি মারার মারাত্মক অভিযোগে এবার লা আলবিসেলেস্তেদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করতে চলেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা।

খেলা শেষের ঠিক পরেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচা কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলা টিপে ধরে মাটিয়ে আছড়ে ফেলার অপরাধে লাল কার্ড দেখানো হয় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে। শুধু তাই নয়, এর পরেই স্পেনের গাভির মাথায় চড় মারেন এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি যখন দলের জয় উদযাপন করতে দৌড়াচ্ছিলেন, তখন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা আচমকাই তাঁর পেটে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ম্যানচেস্টার সিটির তারকা রদ্রি ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং মোলিনাকে তাড়া করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৩৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডি রদ্রি এবং আইমেরিক লাপোর্তের সঙ্গে তর্কে জড়ান।

সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক দৃশ্যটি তৈরি হয় যখন আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রবার্তো আয়ালা স্পেনের উইঙ্গার দানি ওলমোকে লক্ষ্য করে ঘুষি চালান। গার্সিয়ার হস্তক্ষেপে সে যাত্রা পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হওয়া থেকে রক্ষা পায়। পুরো বিশ্ব কাপ জুড়েই আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছিল। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও জিওভানি লো চেলসোদের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন করার ঘটনাতেও ফিফা ইতিমধ্যেই তদন্ত চালাচ্ছে। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই ফাইনালের এই অভূতপূর্ব অসভ্যতা নীল-সাদা ব্রিগেডের ওপর বড়সড় নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া ঝুলিয়ে দিল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের প্রাক্তন কিংবদন্তি অ্যালান শিয়ারার আর্জেন্টিনার এই আচরণের তীব্র নিন্দা করে বলেন, “পারেদেস পর পর দুটো তিনটে পাঞ্চ মারল বিপক্ষের ফুটবলারদের মুখে। হারের একটা মার্জিত ভঙ্গি থাকা উচিত। কিন্তু আর্জেন্টিনা বারবার এই একই খারাপ মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। ফাইনাল শেষের এই প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত জঘন্য।”

অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রাক্তন তারকা গ্যারি নেভিল এটিকে “লজ্জাজনক” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে এই চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেও একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন লিওনেল মেসি। হারের কান্নায় ভেঙে পড়লেও তিনি মাঠে উপস্থিত প্রতিটি স্প্যানিশ ফুটবলারের সঙ্গে করমর্দন করে খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার পরিচয় দেন, যা ফুটবল ভক্তদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে। ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের গোলেই শেষ পর্যন্ত স্পেনের মাথায় উঠেছে বিশ্বসেরার মুকুট, আর আর্জেন্টিনার কপালে জুটল ফিফার তদন্তের লজ্জা।