জুরিখে ফিফার (FIFA) সদর দফতরের কাচের দেওয়ালে কান পাতলে এখন শোনা যাচ্ছে একটা অদ্ভুত টিকটিক শব্দ। কোনও টাইম বোমার কাউন্টডাউন নয় তো? বিশ্ব ফুটবলের অন্দরমহলে কান পাতলে কিন্তু তেমনই এক মহাপ্রলয়ের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। যে প্রলয়ের জেরে হয়তো চিরতরে নিভে যেতে পারে বিশ্বকাপের আলো!
গোপনে পাতা হচ্ছিল এক সর্বনাশা কর্পোরেট জাল। লক্ষ্য ফুটবলের আত্মাকে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে নিলামে তোলা। কিন্তু সেই গোপন চুক্তির আঁচ পেতেই ইউরোপের বুকে আছড়ে পড়ল এক বেনজির ভূমিকম্প। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এই অন্ধকার ‘মাস্টারপ্ল্যান’-এর বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করল ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা উয়েফা। স্পেন, ফ্রান্সসহ ৫৬টি দেশের কড়া আল্টিমেটাম এই কর্পোরেট চুক্তি অবিলম্বে আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে না ফেললে, বিশ্বকাপ বয়কট করবে গোটা ইউরোপ!
কী ছিল সেই গোপন চুক্তিতে? জানা গিয়েছে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইসেস নামে এক নতুন কর্পোরেট সংস্থার হাতে বিশ্বকাপের মতো মেগা টুর্নামেন্টের রাশ তুলে দিতে চাইছেন ইনফান্তিনো। লক্ষ্য, সেই সংস্থার অন্তত ২১ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়া! জেপি মর্গ্যানের মস্তিষ্কপ্রসূত এই মেগা ডিলের ফলে ফিফার কোষাগারে ঢুকবে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। আর এই কর্পোরেট সাম্রাজ্যের মসনদে বসতে চলেছেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাইয়ের ভাই, জোশুয়া কুশনার।
কিন্তু টাকার এই নির্লজ্জ প্রলোভন বুমেরাং হয়ে ফিরেছে ফিফার দিকেই। উয়েফার সঙ্গে হাত মিলিয়ে এবার ফিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ৪১টি দেশের সংগঠন কনকাকাফও। তাদের সাফ কথা, ফুটবলের আবেগ বিক্রি হলে জুরিখে আর কোনও দিন তারা পা রাখবে না।
সামনেই ব্রাজিলে মহিলাদের বিশ্বকাপ, আর তারপর ২০৩০ এর মহারণ। কিন্তু উয়েফা এবং কনকাকাফের এই চরম বয়কটের হুমকিতে এখন গোটা বিশ্ব ফুটবলের বুকে নেমে এসেছে এক হিমশীতল স্তব্ধতা। সবুজ গালিচায় কি আদৌ গড়াবে বল? নাকি পুঁজিপতিদের লালসার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে বিশ্বকাপের শতবর্ষের ইতিহাস? ফিফা বসের এক আত্মঘাতী চালে এখন এক দমবন্ধ করা সাসপেন্সের প্রহর গুনছে গোটা বিশ্ব! কে করবে প্রথম ভুল? কে ফেলবে শেষ দান?




