‘ডেডজোনিং’ কী? নেটওয়ার্কহীন ভ্রমণেই মানসিক শান্তি খুঁজছে Gen Z

অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: ছুটি মানেই আর শুধু নতুন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করা নয়। এখন অনেক তরুণ-তরুণীর (Gen Z) কাছে ছুটির…

what-is-deadzoning-gen-z-offline-travel-trend

অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: ছুটি মানেই আর শুধু নতুন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করা নয়। এখন অনেক তরুণ-তরুণীর (Gen Z) কাছে ছুটির আসল অর্থ হলো কাজ, ই-মেল, নোটিফিকেশন এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকা। আর সেই লক্ষ্যেই দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নতুন ট্রাভেল ট্রেন্ড ‘ডেডজোনিং’ (Deadzoning)।

ডেডজোনিং বলতে বোঝায়, ইচ্ছাকৃতভাবে এমন জায়গায় ভ্রমণে যাওয়া যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক খুবই দুর্বল বা নেই বললেই চলে। আবার অনেকেই নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও কাজের ই-মেল, অফিসের মেসেজ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগ থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। উদ্দেশ্য একটাই, কয়েকদিনের জন্য সম্পূর্ণ মানসিক বিশ্রাম।

Advertisements

বদলেছে ভ্রমণের সংজ্ঞা

এক সময় ভ্রমণের প্রধান আকর্ষণ ছিল সুন্দর ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা। কিন্তু ওয়ার্ক ফ্রম হোম এবং হাইব্রিড ওয়ার্ক কালচার জনপ্রিয় হওয়ার পর কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা অনেকটাই মুছে গেছে। ছুটির মধ্যেও অফিসের ফোন, ই-মেল কিংবা অনলাইন মিটিং এখন অনেকের কাছে স্বাভাবিক ঘটনা।

এই পরিস্থিতির বিপরীত পথই দেখাচ্ছে ডেডজোনিং। তরুণ প্রজন্ম এখন বেছে নিচ্ছেন পাহাড়ের নির্জন গ্রাম, জঙ্গলের মাঝের রিসর্ট, দূরবর্তী দ্বীপ কিংবা এমন সব গন্তব্য, যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই বা খুবই সীমিত। শহরে বেড়াতে গেলেও অনেকে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কাজের জন্য ফোন ব্যবহার করছেন, বাকি সময় কাজের সব অ্যাপ বন্ধ রাখছেন।

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে ডেডজোনিং?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম, কাজের চাপ এবং সারাক্ষণ অনলাইনে থাকার অভ্যাস থেকেই এই প্রবণতার জন্ম।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে
• তরুণ কর্মজীবীদের মধ্যে বার্নআউট বা মানসিক অবসাদের সমস্যা বাড়ছে।
• অধিকাংশ পর্যটক এখন ব্যস্ত ভ্রমণসূচির বদলে শান্ত ও ধীরগতির ছুটি কাটাতে চান।
• যারা ভ্রমণের সময় মোবাইল ব্যবহার সীমিত রাখেন, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি মানসিক প্রশান্তি অনুভব করেন।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, স্মার্টফোন সবসময় কাছে থাকলে মস্তিষ্ক অবচেতনভাবে কাজের চাপ বহন করে। কয়েকদিনের জন্য সেই সংযোগ থেকে দূরে থাকলে মানসিক চাপ কমে, মনোযোগ বাড়ে এবং ঘুমের মানও উন্নত হয়।

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

কীভাবে পালন করা হয় ডেডজোনিং?

এই ট্রেন্ড অনুসরণ করতে কঠোর নিয়ম মানতে হয় না। সাধারণত ভ্রমণকারীরা কয়েকটি সহজ উপায় অবলম্বন করেন
• নেটওয়ার্কবিহীন বা কম নেটওয়ার্কযুক্ত গন্তব্য বেছে নেওয়া।
• ভ্রমণের আগে পরিবার ও সহকর্মীদের জানিয়ে দেওয়া যে কয়েকদিন যোগাযোগ সীমিত থাকবে।
• অফিসের অ্যাপ, ই-মেল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা বা সাময়িকভাবে অ্যাপ ব্যবহার না করা।
• ছবি তোলার চেয়ে প্রকৃতি, পরিবেশ এবং সঙ্গীদের সঙ্গে সময় কাটানোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।

শুধু ট্রেন্ড নয়, বদলে যাওয়া জীবনধারা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেডজোনিং শুধুমাত্র একটি নতুন ট্রাভেল ট্রেন্ড নয়; বরং ডিজিটাল যুগে মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার একটি কার্যকর উপায়। এখন অনেকের কাছেই সফল ছুটির মানে আর কতগুলি পর্যটনকেন্দ্র দেখা নয়, বরং কাজের চাপ থেকে কতটা মুক্তি মিলল এবং কতটা মানসিক শান্তি পাওয়া গেল, সেটাই হয়ে উঠছে আসল সাফল্য।

ডিজিটাল দুনিয়ার কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে সরে প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার এই প্রবণতাই আগামী দিনে আরও জনপ্রিয় হবে বলে মনে করছেন পর্যটন ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।