বাবান আদক, কলকাতা: কলঙ্কিত ফিফা! ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বাতিল করার যে নির্লজ্জ প্রহসন ফিফা (FIFA) দেখাল, তা ফুটবলের ইতিহাসে এক চূড়ান্ত কলঙ্কময় অধ্যায়! একটি ফুটবল নিয়ামক সংস্থা যে কীভাবে একজন রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতার দম্ভের কাছে নিজেদের মেরুদণ্ড বিকিয়ে দিতে পারে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আর জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এই নোংরা আঁতাত তারই সবচেয়ে নগ্ন প্রমাণ।
বালোগান বসনিয়ার বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখেছিলেন, নিয়ম অনুযায়ী বেলজিয়াম ম্যাচে তাঁর মাঠের বাইরেই থাকার কথা। কিন্তু হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্পের একটা ফোনেই রাতারাতি বদলে গেল ফুটবলের অমোঘ আইন! সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং লজ্জাজনক তথ্য হলো, ফিফার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির ১৮ জন সদস্যের মধ্যে ১৭ জন ঘুণাক্ষরেও এই সিদ্ধান্তের কথা জানতেন না। সাধারণত কমিটির চেয়ারম্যান মহম্মদ আল কামালি, জর্জ পালাসিয়ো এবং বাকি সদস্যদের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া এক জনকে নিয়ে গড়া তিন সদস্যের প্যানেল এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু স্পর্ধার চরম সীমা ছাড়িয়ে কামালি কার্যত একনায়কের মতো একাই এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলেন! ১৭ জন সদস্যকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে, মাত্র একজনের সম্মতিতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানো হলো। এর চেয়ে বড় স্বৈরতন্ত্র আর কী হতে পারে?
Also Read | FIFA বিশ্বকাপে সুযোগ পেল ভারত! কাপ জেতার হুংকার রঞ্জিত বাজাজের
আজকের এই নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব দেখে গোটা ফুটবল বিশ্ব স্তব্ধ ও ক্ষুব্ধ। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের লরাঁ ব্লাঁ কিংবা ২০০২ সালে জার্মানির মাইকেল বালাকের মতো কিংবদন্তিরা কার্ড সমস্যায় মেগা ফাইনাল খেলতে পারেননি। তাঁরা মাঠের বাইরে বসে থেকেছেন, কিন্তু তাঁদের দেশের রাষ্ট্রপ্রধান তো তখন তাঁদের হয়ে ফিফাকে ফোন করে চাপ সৃষ্টি করেননি! ফিফাও তখন নিয়মের প্রশ্নে অটল ছিল। আজ ট্রাম্পের অঙ্গুলিহেলনে সেই ফিফাই নিজেদের আইনকে কালির ডোবায় চুবিয়ে দিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিফা এবং বিশ্বফুটবলের ভাবমূর্তি এর চেয়ে বেশি আর কখনও কলুষিত হয়নি।
গোটা বিশ্ব যখন এই ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছে, তখন হোয়াইট হাউসে বসে চরম ঔদ্ধত্যের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফাই গাইছেন, “আমি ফিফাকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বলিনি, শুধু পর্যালোচনা করতে বলেছিলাম। কারণ আমার মনে হয়েছিল ওটা ফাউল নয়। দু’জন ফুটবলার জোরে ছুটে আসার সময় সংঘর্ষ হয়েছে, এটুকুই।” একজন রাষ্ট্রপ্রধান যখন স্বয়ং ফিফা সভাপতিকে ফোন করে ‘পর্যালোচনা’ করার ‘অনুরোধ’ করেন, তখন তার আসল অর্থ বুঝতে কারও বাকি থাকে না। ট্রাম্পের এই যুক্তি কার্যত ফুটবলপ্রেমীদের বুদ্ধিমত্তাকে অপমান করার সামিল।
Also Read | লাল হলুদ ছেড়ে কেন সবুজ মেরুনে ? জানালেন মোহনবাগান ফুটবলার সায়ন ব্যানার্জি
রাজনীতি এবং ক্ষমতার আস্ফালনে ফুটবলের স্পিরিটকে যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করা হলো, তা ফুটবলবিশ্ব কোনোদিন ভুলবে না। ফিফা আজ প্রমাণ করে দিল, তারা আর ফুটবলের স্বাধীন নিয়ামক সংস্থা নয়, বরং ক্ষমতাবানদের হাতের সস্তা পুতুল!





