কলকাতা: বেঙ্গালুরু এফসি ম্যাচে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে লাল কার্ড দেখেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠের ফুটবলার মিগুয়েল ফিগুয়েরা। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, তাঁকে তিন ম্যাচের জন্য নির্বাসিত করা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের অন্যতম ভরসাযোগ্য বিদেশি ফুটবলারকে হারাতে নারাজ ইস্টবেঙ্গল কর্তৃপক্ষ। তাই দ্রুত ফেডারেশনের কাছে শাস্তি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায় ক্লাব।
সেই আবেদনের ভিত্তিতেই সম্প্রতি ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠকে মিগুয়েলের বিষয়টি শুনানি হয়। যদিও ফুটবলার নিজে এদিন উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর হয়ে আইনজীবী উপস্থিত থেকে সমস্ত বক্তব্য পেশ করেন। জানা গেছে, মিগুয়েলের পক্ষ থেকে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে কমিটির সামনে। শুধু নিজের বক্তব্যই নয়, এবারের আইএসএলে বিভিন্ন ম্যাচে ঘটে যাওয়া একাধিক বিতর্কিত ঘটনার উদাহরণও তুলে ধরা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, একই ধরনের ঘটনায় অন্যদের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা সামনে এনে শাস্তি কমানোর আবেদনকে জোরদার করা। শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সদস্যরা সব পক্ষের বক্তব্য মন দিয়ে শুনেছেন।
তবে বৈঠকের পরই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, মিগুয়েলের শাস্তি কমবে কি না। তবে ইস্টবেঙ্গল শিবিরে আশাবাদী মনোভাব রয়েছে। ক্লাবের বিশ্বাস, আইনজীবীর যুক্তি যদি কমিটির সদস্যদের সন্তুষ্ট করতে পারে, তাহলে তিন ম্যাচের নির্বাসন কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে দলের জন্য তা বড় স্বস্তির খবর হবে। তবে ক্লাব বাস্তব পরিস্থিতিও মাথায় রাখছে। পরের ম্যাচে মিগুয়েলকে পাওয়া যাবে না বলেই ধরে নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছেন কোচ অস্কার ব্রুজ়ো। সামনে ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই, তাই বিকল্প পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে দল। মাঝমাঠে তাঁর অনুপস্থিতি যে বড় ধাক্কা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই অন্য ফুটবলারদের দায়িত্ব বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সমর্থকদের জন্য অবশ্য কিছুটা সুখবরও রয়েছে। দীর্ঘদিন চোটের জন্য বাইরে থাকা রশিদ ধীরে ধীরে মাঠে ফেরার পথে। বৃহস্পতিবার তিনি মূল দলের সঙ্গে কিছু সময় অনুশীলন করেছেন। যদিও পুরো সেশনে ছিলেন না, তবু তাঁর মাঠে নামা ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। গত কয়েকদিন তিনি শুধু সাইডলাইনে আলাদা করে রিহ্যাব করছিলেন। এবার দলের সঙ্গে বল ট্রেনিংয়ে যোগ দেওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, তিনি দ্রুত ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে ইস্টবেঙ্গল এখন একদিকে মিগুয়েলের শাস্তি কমার অপেক্ষায়, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দল গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত। সামনে কঠিন পরীক্ষা, তবে রশিদের ফেরার সম্ভাবনা এবং মিগুয়েলকে নিয়ে ইতিবাচক আশা—এই দুই খবর লাল-হলুদ শিবিরে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।




















