‘পরের বিশ্বকাপ আমেরিকাই করুক’, ফিফা সভাপতির সামনে ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে উৎসবের আবহে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল তিনি গ্যালারিতে বসে…

donald-trump-wants-usa-to-host-next-fifa-world-cup-alone

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে উৎসবের আবহে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল তিনি গ্যালারিতে বসে দেখবেন। তাঁর পাশে থাকবেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। শুধু ম্যাচ দেখা নয়, খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দলের ফুটবলারদের হাতে ট্রফি ও পদক তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ট্রাম্পের।

Also Read | রবিবার সকালেই শহরে আসছেন পানাজিওটিস দিলম্পেরিস

ফাইনালের দু’দিন আগে নিউ ইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে বিশ্বকাপ উপলক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ফিফা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইনফ্যান্তিনো, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল-এর সভাপতি-সহ একাধিক শীর্ষ ফুটবল প্রশাসক। অনুষ্ঠানে ইনফ্যান্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং গোটা টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য মার্কিন প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এই প্রশংসার জবাব দিতে গিয়ে ট্রাম্প প্রথমে হালকা মেজাজেই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপের আয়োজন দেখে মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এখন সত্যিই ফুটবলের দেশ হয়ে উঠেছে। তাই ভবিষ্যতে আবারও বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব আমেরিকার পাওয়া উচিত। কিন্তু এরপরই তাঁর মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।

Also Read | নন্দনের বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিশেষ আয়োজন

ট্রাম্প রসিকতার সুরে বলেন, পরের বার যদি বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ আসে, তবে কানাডা ও মেক্সিকোকে আর অংশীদার করা হবে না। বরং চাইলে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে সেই আয়োজন করা যেতে পারে। যদিও বক্তব্যটি হাস্যরসের ছলেই বলা হয়েছিল, তবুও তা উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইস্যুতে মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অনেকেই নিছক রসিকতা হিসেবে দেখছেন না।

অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ থেকে ট্রাম্প পরে চলে যান ইংল্যান্ড দলের পারফরম্যান্সের আলোচনায়। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে কোচ টমাস টুখেলের কৌশল নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ট্রাম্পও সেই বিতর্কে নিজের মত প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় রয়েছে এবং একসঙ্গে গলফও খেলেছেন। কেনকে তিনি অসাধারণ ফুটবলার বলেই মনে করেন। তাই ম্যাচ চলাকালীন কেনকে আক্রমণভাগ থেকে অনেকটা নিচে নামিয়ে খেলানোর সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে বোধগম্য হয়নি।
Also Read |
ট্রাম্পের কথায়, ফুটবল সম্পর্কে তিনি বিশেষজ্ঞ নন। তবুও তাঁর মনে হয়েছে, ইংল্যান্ড যখন এগিয়ে ছিল, তখন দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে রক্ষণাত্মক ভূমিকায় পাঠানো ঠিক হয়নি। তাঁর মতে, কেন যদি সামনের দিকে থেকেই খেলতেন, তাহলে ইংল্যান্ডের আক্রমণ আরও ধারালো হতে পারত এবং ম্যাচের ফলও ভিন্ন হতে পারত।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে টুখেলের কৌশল নিয়ে আলোচনাকে উসকে দিয়েছে। যদিও ইংল্যান্ড শিবিরের তরফে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচের আগে ট্রাম্পের উপস্থিতি এবং তাঁর একের পর এক মন্তব্য আবারও প্রমাণ করে দিল, তিনি শুধু রাজনীতির মঞ্চেই নন, ক্রীড়াঙ্গনেও সমানভাবে শিরোনামে থাকতে জানেন। এখন দেখার বিষয়, রবিবারের ফাইনালে গ্যালারিতে তাঁর উপস্থিতি কতটা আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ট্রফি কার হাতে ওঠে।