সবচেয়ে বড় চমকটি বোধহয় অপেক্ষা করছিল মাঠের বাইরেই! বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা, তা প্রমাণ করে ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছেন কাবো ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা (Vozinha)। আর তাঁর সেই অদম্য লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ, ফুটবল মাঠের সীমানা পেরিয়ে তিনি এখন নীরবে বেঁচে থাকবেন ক্যারিবিয়ান সাগরের নীল অতলে। প্রখ্যাত স্প্যানিশ মেরিন বায়োলজিস্ট প্রফেসর জেসুস ওরতিয়া ভোজিনহার অতিমানবিক পারফরম্যান্সে এতটাই মুগ্ধ হয়েছেন যে, সদ্য আবিষ্কৃত একটি সামুদ্রিক স্লাগ-এর নামকরণ করেছেন এই গোলরক্ষকের নামে। কিউবার হাভানা এবং গুয়াদেলুপের নিকটবর্তী ক্যারিবিয়ান সাগরে আবিষ্কৃত চার মিলিমিটারের এই ছোট্ট, লাল রঙের সামুদ্রিক মলাস্ক এখন বিজ্ঞান মহলে পরিচিত হবে ‘অ্যালডিসা ভোজিনহাই’ নামে।
প্রফেসর ওরতিয়া তাঁর Historias de la Bioadversidad গবেষণাপত্রে ঠিক বিশ্বকাপের সময়ই এই আবিষ্কারের কথা প্রকাশ্যে আনেন। এর পিছনে স্পেনের বিরুদ্ধে ভোজিনহার সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের প্রতি সম্মান যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে কাবো ভার্দের মানুষের প্রতি এক গভীর কৃতজ্ঞতা। কাবো ভার্দের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে নিরলস গবেষণার জন্য ২০২৩ সালে তাঁকে ‘মেডেল অফ এনভায়রনমেন্টাল মেরিট’ সম্মানে ভূষিত করেছিল সে দেশের সরকার। সেই ভালোবাসার ঋণ প্রফেসর ওরতিয়া ফিরিয়ে দিলেন এক সম্পূর্ণ অভিনব উপায়ে।
Also Read | FIFA World Cup: পেনাল্টি মিসের পর খুনের হুমকি, এস্কোবার স্মৃতি ফিরল কলম্বিয়ার ফুটবলে
বিজ্ঞানের এই স্বীকৃতি আসলে বিশ্বকাপের মঞ্চে ভোজিনহার সেই অবিশ্বাস্য বীরত্বেরই ফসল। স্পেনের বিরুদ্ধে ম্যাচে স্প্যানিশ আর্মাডার একের পর এক ভয়ংকর আক্রমণ আছড়ে পড়ছিল কাবো ভার্দের বক্সে। কিন্তু তেকাঠির নিচে বিশ্বকাপের এই গোলরক্ষক সেদিন হয়ে উঠেছিলেন এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর। ৭টি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে ম্যাচটি গোলশূন্য (০-০) ড্র রেখেছিলেন তিনি। সেই ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পারফরম্যান্স রাতারাতি এক গ্লোবাল সেনসেশনে পরিণত করেছিল তাঁকে। বিশ্বকাপের আগে যাঁর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার ছিল মাত্র ৫০ হাজার, সেই সংখ্যা জাদুমন্ত্রের মতো বেড়ে দাঁড়ায় আড়াই কোটিতে (২৫ মিলিয়ন)।
Also Read | মোহনবাগানের পথেই ছাংতে, ঘোষণার অপেক্ষায় সমর্থকরা
ফুটবল আর বিজ্ঞান দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জগৎ। একটিতে সবুজ ঘাসের ওপর গ্যালারির গগনভেদী গর্জন, অন্যটিতে সমুদ্রের অতলান্তিক নীরবতা। কিন্তু ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এই দুই মেরুকে এক সুতোয় বেঁধে দিল। ক্যারিবীয় সাগরের নীল অতলে ‘অ্যালডিসা ভোজিনহাই’-এর অস্তিত্ব যতদিন থাকবে, বিশ্ব ফুটবলও মনে রাখবে কাবো ভার্দের সেই অদম্য প্রহরীর কথা।




