বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: গত কয়েক বছর ধরেই সর্বভারতীয় স্তরে ক্রিকেটে বাংলা দলের ধারাবাহিকতার অভাব প্রকট। বিশেষ করে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে রঞ্জি ট্রফি অধরা থাকার যন্ত্রণা কুরে কুরে খাচ্ছে ক্রিকেটমহলকে। নক আউটে পৌঁছলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বা ফাইনালে গিয়ে বারবার খেই হারিয়ে ফেলছে বাংলা। এই ট্রফি খরা কাটাতে এবং ভবিষ্যৎ ক্রিকেটের সাপ্লাই লাইন নিশ্চিত করতে এবার আটঘাট বেঁধে নেমেছে সিএবি প্রশাসন। সেই সুসংগঠিত ও বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনারই অন্যতম প্রধান অঙ্গ হলো ‘ভিশন ২০২৮’ প্রকল্প। সোমবার ইডেনে সেই বিশেষ প্রকল্পের শিবিরেই সশরীরে হাজির হয়ে সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
কী এই ‘ভিশন ২০২৮’? এটি আদতে সিএবির একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা। কলকাতা ময়দান থেকে শুরু করে জেলা স্তরে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাদের নিখুঁত স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে তুলে এনে, তাঁদের জাতীয় স্তরের জন্য প্রস্তুত করাই এর মূল লক্ষ্য। আর এই গোটা প্রক্রিয়ার তদারকিতে রয়েছেন বাংলার প্রাক্তন তারকারা। মাসদুয়েক আগেই পেস ও স্পিন বিভাগের বোলিং কোচের গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে অশোক দিন্ডা এবং উৎপল চট্টোপাধ্যায়ের হাতে। সোমবারের শিবিরে এই দুই কোচের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র দলের হেড কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল, অনূর্ধ্ব-১৬ দলের কোচ অনুষ্টুপ মজুমদারসহ অন্যান্য বয়সভিত্তিক দলের কোচেরা।
এদিন ইডেনের শিবিরে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান সৌরভ। তরুণ ক্রিকেটারদের মানসিকতা কীভাবে আরও দৃঢ় করা যায়, বড় মঞ্চে চাপের মুখে ম্যাচ বের করার স্ট্র্যাটেজি কী হওয়া উচিত, তরুণদের সেই মহামূল্যবান পাঠই দিলেন সিএবি সভাপতি। বয়সভিত্তিক দল থেকে সিনিয়র দলে ক্রিকেটারদের উত্তরণের পথটা যাতে মসৃণ হয় এবং প্রতিভার সাপ্লাই লাইন যাতে কখনই শুকিয়ে না যায়, সিএবির এই ব্লু প্রিন্ট মূলত সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অধিনায়ককে এত কাছে পেয়ে এবং তাঁর পরামর্শ শুনে উদ্বুদ্ধ শিবিরের ক্রিকেটারেরা। তাঁরাও আগামী দিনে বাংলার হয়ে মাঠে নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, আগামী চার বছরের মধ্যে বাংলার ক্রিকেটকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর সিএবি।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা





