বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বাংলার ক্রিকেটে (Bengal Cricket) নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে দুই প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে ঘিরে তৈরি হওয়া নথিগত জটিলতা। একজন সম্প্রতি ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরের সুযোগ পেয়েছেন, অন্যজন সুযোগ পেয়েছেন ইমার্জিং ইন্ডিয়া দলে। অথচ বিস্ময়করভাবে, বাংলা ক্রিকেটের আসন্ন মরসুমের সম্ভাব্য ক্রিকেটারদের তালিকায় তাঁদের কারও নাম নেই। বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেট মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতীয় দলের সদস্য লেগস্পিনার রোহিতের নাম বাংলার অনূর্ধ্ব-১৯ সম্ভাব্য তালিকায় নেই। একইভাবে ইমার্জিং ইন্ডিয়া দলে ডাক পাওয়া পেস অলরাউন্ডার রবি কুমারের নামও অনূর্ধ্ব-২৩ সম্ভাব্য দলে রাখা হয়নি। দু’জনই দীর্ঘদিন বাংলার হয়ে খেলেছেন এবং এখান থেকেই জাতীয় স্তরে পৌঁছেছেন। তাই তাঁদের বাদ পড়া স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে আধার কার্ডের তথ্য নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সম্প্রতি বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ক্রিকেটারদের আধার কার্ডের আপডেট ইতিহাস বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) বিভিন্ন ক্রিকেটারের নথি যাচাই করছে।
আগে ক্রিকেটারদের নিবন্ধনের সময় জন্ম শংসাপত্র, অভিভাবকের ভোটার কার্ড, স্থানীয় ঠিকানার প্রমাণ এবং স্কুলের নথি জমা দিলেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতো। কিন্তু এখন আধার কার্ডে অতীতে কী কী পরিবর্তন হয়েছে, জন্মতারিখ বা ঠিকানা কতবার বদলানো হয়েছে, সেগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর এই পর্যায়েই সামনে এসেছে রোহিত ও রবির নথিগত অসঙ্গতি।
রোহিতের আধার কার্ডের আপডেট ইতিহাসে একাধিকবার জন্মসাল পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। প্রথম নিবন্ধনের সময় তাঁর জন্মসাল একরকম থাকলেও পরে বিভিন্ন সময়ে তা পরিবর্তিত হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের ঠিকানায়ও পরিবর্তন হয়েছে। ফলে প্রকৃত জন্মসাল কোনটি, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদি পুরনো তথ্যই সঠিক হয়, তাহলে তাঁর বর্তমান বয়স অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট খেলার নির্ধারিত সীমার বাইরে চলে যেতে পারে। অথচ তিনি ইতিমধ্যেই ভারতীয় দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েছেন।
একই ধরনের সমস্যা ধরা পড়েছে রবি কুমারের ক্ষেত্রেও। তাঁর আধার নথিতে দুটি ভিন্ন জন্মসালের উল্লেখ রয়েছে। একটি তথ্য অনুযায়ী তিনি এখনও অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেট খেলার যোগ্য, অন্য তথ্য অনুযায়ী সেই বয়সসীমা অনেক আগেই অতিক্রম করেছেন। ফলে তাঁর যোগ্যতা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
সূত্রের দাবি, সিএবি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। দুই ক্রিকেটারকেই নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। যদি প্রমাণ করা যায় যে নথিগত ভুল তাঁদের কারণে নয় বা সরকারি নথি সংশোধনের সময় কোনও প্রশাসনিক ত্রুটি হয়েছে, তাহলে সেই সংক্রান্ত সমস্ত প্রমাণ লিখিতভাবে জমা দিতে হবে। তদন্তে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা মিললে ভবিষ্যতে তাঁরা আবার বাংলার হয়ে খেলার সুযোগ পেতে পারেন।
তবে যতদিন না এই জটিলতার সমাধান হচ্ছে, ততদিন বাংলার কোনও সম্ভাব্য দলেই তাঁদের নাম রাখা হচ্ছে না। বিষয়টি শুধু দুই ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ নয়, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নথি যাচাইয়ের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। এখন নজর থাকবে তদন্ত ও শুনানির ফলাফলের দিকে, কারণ সেই সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেবে বাংলার এই দুই প্রতিভাবান ক্রিকেটারের আগামী পথ।





