বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ৪০ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) নকআউট পর্বে জয় পেয়েছে মেক্সিকো। ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দে গোটা দেশ উৎসবে মেতে ওঠে। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিণত হয় গভীর শোকে। রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে বিজয় উদ্যাপনের সময় অতিরিক্ত ভিড় ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির কারণে তিন সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার ভোরে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক ‘অ্যাঞ্জেল অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স’ চত্বরে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয় দলের জয় উদ্যাপন করতে। জাতীয় পতাকা হাতে, গান, নাচ ও উল্লাসে গোটা এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সংখ্যা এতটাই বেড়ে যায় যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ভিড়ের চাপে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে তিন জনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, ১৯ বছরের এক তরুণী এবং ৪৮ বছর বয়সী এক মহিলা। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, প্রথম দু’জনকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের শরীর আর সাড়া দেয়নি। পরে আরও এক মহিলাকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক তদন্তে প্রশাসনের অনুমান, অতিরিক্ত ভিড় এবং পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে দমবন্ধ হয়ে এই মৃত্যুগুলি ঘটেছে। কোনও ধরনের হিংসা বা দুর্ঘটনার প্রমাণ এখনও পর্যন্ত মেলেনি। তবে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
মেক্সিকো সিটির মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এমন ঐতিহাসিক জয় অবশ্যই উদ্যাপন করা উচিত, তবে তা যেন দায়িত্বশীল ও নিরাপদ উপায়ে হয়। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য নাগরিকদের সতর্ক থাকারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
মেক্সিকো সিটির ‘অ্যাঞ্জেল অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স’ এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় উৎসব ও ক্রীড়া সাফল্য উদ্যাপনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশের ফুটবল দল বা অন্য কোনও বড় আন্তর্জাতিক সাফল্যের পর হাজার হাজার মানুষ সেখানে একত্রিত হন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু জনসমাগম এতটাই বেড়ে যায় যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল না বলেই মনে করা হচ্ছে।
একদিকে বিশ্বকাপে চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়েছে মেক্সিকো। অন্যদিকে সেই আনন্দের রাতেই তিন সমর্থকের প্রাণহানিতে গোটা দেশ শোকস্তব্ধ। যে জয় কোটি মানুষের মুখে হাসি এনেছিল, সেই জয়ের উৎসবই তিনটি পরিবারের জীবনে চিরস্থায়ী অন্ধকার নামিয়ে আনল। ফলে ঐতিহাসিক সাফল্যের পাশাপাশি নিরাপদ উদ্যাপনের গুরুত্ব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।





