FIFA সভাপতির নামে থানায় অভিযোগ, নোয়াখালির ঘটনায় চাঞ্চল্য বাংলাদেশে

বিশ্বকাপের রেফারিং বিতর্কের জেরে ফিফা সভাপতি ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নোয়াখালি থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে আলোচনায় এক যুবক।

bangladesh-noakhali-fifa-president-police-complaint

বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: নোয়াখালি থানায় ফিফা (FIFA) সভাপতির নামে অভিযোগ! এ কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব। বিশ্বায়নের এই যুগে দাঁড়িয়েও মানুষের চিন্তাভাবনা যে কতটা অন্ধকার যুগে পড়ে থাকতে পারে, তার এক চূড়ান্ত ও হাস্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বাংলাদেশের নোয়াখালি। আন্তর্জাতিক ফুটবল, বৈশ্বিক আইন বা বিশ্ব ভূগোল সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণার অভাব থাকলেই বোধহয় এমন কাণ্ড ঘটানো সম্ভব!

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে মান্দারতলি গ্রামের ২২ বছরের যুবক মহম্মদ রাকিব। বিশ্বকাপে আর্জেন্তিনা বনাম মিশর ম্যাচে রেফারিং নিয়ে তাঁর আক্ষেপ থাকতেই পারে। কিন্তু সেই ‘অবিচার’-এর বিচার চাইতে তিনি সোজা হাজির হলেন সুধারাম মডেল থানায়! তাঁর দাবি, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সির-সহ ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশকে মামলা করতে হবে। এখানেই শেষ নয়, ‘মানসিক বিপর্যয়’-এর কারণ দেখিয়ে ফিফার কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন তিনি। রাকিবের এই কাণ্ড দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক আইনের সীমারেখা সম্পর্কে তাঁর বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই। তিনি হয়তো সত্যিই বিশ্বাস করেন যে, নোয়াখালির পুলিশ চাইলেই সুইজারল্যান্ড থেকে ফিফা সভাপতিকে ধরে এনে গারদে পুরতে পারে!

সুধারাম থানার ওসি মহম্মদ কামরুল ইসলাম তাঁকে আইনি এক্তিয়ারের বিষয়টি বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু রাকিব নাছোড়বান্দা। পুলিশ মামলা না নেওয়ায় তিনি এখন আদালতের দ্বারস্থ হতে চান, প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করবেন! আন্তর্জাতিক ফুটবলের রেফারিং বিতর্ক যে নোয়াখালির রাস্তায় মানববন্ধন করে মেটানো যায়, এমন উদ্ভট চিন্তাভাবনা বোধহয় শুধুমাত্র বাংলাদেশেই সম্ভব। একে নিছক ‘ফুটবল আবেগ’ বলে মহিমান্বিত করার কোনও জায়গা নেই। বরং এটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে একটা বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের মানসিকতা, শিক্ষা ও চিন্তাধারা আজও কতটা পিছিয়ে রয়েছে।