মাঠে ফুটবলারদের লড়াইয়ের আড়ালে চলছে কোটি কোটি টাকা হাতানোর নোংরা খেলা। বিশ্বকাপ ফাইনালের ঠিক পরেই আমেরিকার মাটিতে চরম অপদস্থ হলেন আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার শীর্ষ কর্তারা। অভিযোগ মারাত্মক ২৯০০ কোটি টাকার স্পনসরশিপ দুর্নীতি ও আর্থিক তছরুপ। বুয়েনস আইরেসের বিমান ধরার আগেই খোদ এএফএ সভাপতি ক্লদিয়ো তাপিয়া এবং কোষাধ্যক্ষ পাবলো টভিজিনোকে কার্যত ঘিরে ধরে আমেরিকার ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। একটি বাসের মধ্যে আটকে রেখে আধ ঘণ্টা ধরে চলে ম্যারাথন জেরা। এমনকি কেড়ে নেওয়া হয় তাঁদের মোবাইল ফোনও।
এফবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আমেরিকার তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার স্পনসরশিপ বাবদ পাওয়া লক্ষ লক্ষ ডলার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হাতবদল করা হয়েছে। আমেরিকার বিভিন্ন ব্যাঙ্কে সেই অর্থ জমা পড়ার কিছুদিনের মধ্যেই তা সরিয়ে ফেলা হতো অন্যত্র। সোজা কথায়, ফুটবল প্রশাসনের আড়ালে চলছিল মানি লন্ডারিং বা বেআইনিভাবে অর্থ পাচারের এক বিশাল চক্র।
আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে দুর্নীতির যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কিন্তু এফবিআইয়ের কড়া জেরার বিষয়টি তারা ধামাচাপা দিতে পারেনি। উলটে তাদের হাস্যকর সাফাই, তাপিয়া বা টভিজিনোকে নয়, কোনও এক ‘তৃতীয় পক্ষ’কে নাকি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল! সেই রহস্যময় ‘তৃতীয় পক্ষ’ কারা, তা নিয়ে এএফএ কর্তারা একেবারেই নীরব।
২৯০০ কোটির এই মেগা কেলেঙ্কারি প্রমাণ করে দিল, বিশ্ব ফুটবলের উন্মাদনার আড়ালে প্রশাসনিক দুর্নীতির শেকড় ঠিক কতটা গভীরে পৌঁছেছে। এএফএ-র এই দুর্নীতি ও গা বাঁচানো বিবৃতি আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য চরম লজ্জার। তদন্তের জাল যত গুটোবে, আর্জেন্টিনার ফুটবল কর্তাদের বিড়ম্বনা যে আরও বাড়বে, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের





