আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় অজিঙ্ক রাহানের, আবেগঘন বার্তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

অজিঙ্ক রাহানের (Ajinkya Rahane) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায়ের শেষ হল এক আবেগঘন মুহূর্তে। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর অবশেষে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের…

ajinkya-rahane-announces-retirement-from-international-cricket-emotional-farewell

অজিঙ্ক রাহানের (Ajinkya Rahane) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায়ের শেষ হল এক আবেগঘন মুহূর্তে। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর অবশেষে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন ভারতের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ৩৮ বছর বয়সে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে তিনি নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। সেই বার্তায় ছিল কৃতজ্ঞতা, স্মৃতিচারণ এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথচলার ইঙ্গিত। বক্তব্যের শেষদিকে আবেগ সামলাতে না পেরে চোখের জলও ফেলেন ভারতের প্রাক্তন সহ-অধিনায়ক।

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ভিডিওর ক্যাপশনে রাহানে লেখেন, ‘টুপি নম্বর ২৭৮ বিদায় জানাচ্ছে। এত বছর ধরে যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আমি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।’ ভিডিওতে তিনি বলেন, ক্রিকেট তাঁকে শুধু সাফল্য নয়, ব্যর্থতা মেনে নিতেও শিখিয়েছে। ছোটবেলায় ডোমভিলির মাঠে ক্রিকেট শেখা থেকে শুরু করে ভারতের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্নপূরণ—সবকিছুর জন্য তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন।

Advertisements

রাহানে জানান, তাঁর কাছে সবসময় দেশের স্বার্থই ছিল সবার আগে। ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলকে এগিয়ে রাখাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি। আগামী দিনে নিজের অভিজ্ঞতা তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান বলেও জানান।

Also Read | খালি পায়ে ইতিহাস, ১১৫ বছর পরেও অমর মোহনবাগান দিবসের গৌরব

নিজের বক্তব্যে তিনি বিসিসিআই, মুম্বই ক্রিকেট সংস্থা, বিভিন্ন কোচ, সতীর্থ, আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং স্ত্রী রাধিকাকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি কঠিন সময়েও যাঁরা তাঁর পাশে থেকেছেন, সেই অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জীবনে অনেকবার হারতে হয়েছে, ভুলও করেছেন। কিন্তু সমর্থকদের হৃদয়ে নিজের জায়গা কখনও হারাননি এই বিশ্বাসই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

ভারতের হয়ে রাহানের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার ছিল প্রায় দেড় দশকের। ৮৫টি টেস্ট ম্যাচে তিনি ৫০৭৭ রান করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ১২টি শতরান। ওয়ানডেতে ৯০ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ২৯৬২ রান এবং তিনটি শতরান। টি-টোয়েন্টিতেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন একাধিকবার। তবে পরিসংখ্যানের বাইরেও ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর অবদান অনেক বড়। কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়া এবং বিদেশের মাটিতে দলের ভরসার ব্যাটার হিসেবে তিনি আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন।

Also Read | টানা তৃতীয়বার কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতে ইতিহাস মীরাবাঈয়ের

রাহানের কেরিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত ছিল ২০২০-২১ সালের অস্ট্রেলিয়া সফর। অ্যাডিলেডে ৩৬ রানে অলআউট হওয়ার পর বিরাট কোহলির অনুপস্থিতিতে তিনি অধিনায়কের দায়িত্ব নেন। মেলবোর্ন টেস্টে শতরান করে দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখান। শেষ পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বেই ভারত ঐতিহাসিকভাবে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি জিতে নেয়। সেই সিরিজ ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এছাড়া ২০১৪ সালে লর্ডসে তাঁর শতরানও বিদেশের মাটিতে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছিল।

তবে গত তিন বছরে জাতীয় দলে আর সুযোগ পাননি রাহানে। ২০২৩ সালে শেষবার টেস্ট খেলার পর তিনি ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষিত ছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করেও জাতীয় দলে ফেরার দরজা আর খুলল না। সেই দীর্ঘ অপেক্ষা এবং বঞ্চনার অনুভূতিও তাঁর অবসরের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

রাহানের বিদায়ের মাধ্যমে ভারতীয় ক্রিকেট হারাল এমন এক ক্রিকেটারকে, যিনি কখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চাননি, কিন্তু প্রয়োজনের সময়ে নীরবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর ব্যাটে ছিল ধৈর্য, নেতৃত্বে ছিল স্থিরতা আর চরিত্রে ছিল বিনয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ভারতীয় ক্রিকেটে অজিঙ্ক রাহানের অবদান এবং তাঁর লড়াইয়ের গল্প দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।