
কলকাতা: অনেক জটিলতা, দেরি আর অনিশ্চয়তার পর অবশেষে চলতি মরশুমে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ আয়োজনের পথে এগিয়েছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। ক্লাবগুলির আর্থিক সহযোগিতার উপর ভর করেই এবার লিগ আয়োজন সম্ভব হচ্ছে। নতুন আর্থিক কাঠামো অনুযায়ী প্রতিটি অংশগ্রহণকারী ক্লাবকে মোট ৮০ লাখ টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে, যা তিনটি ধাপে পরিশোধ করতে হবে।
ফেডারেশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৫ মার্চের মধ্যে ৩০ লাখ টাকা জমা দেওয়ার কথা ছিল। এরপর ২৮ মার্চের মধ্যে আরও ৩০ লাখ এবং শেষ ধাপে ৪ এপ্রিলের মধ্যে বাকি ২০ লাখ টাকা জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ জমা না করলে প্রতিদিন এক লাখ টাকা করে জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছিল। এমনকি চরম ক্ষেত্রে লিগ থেকে বাদ পড়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল ক্লাবগুলিকে। তবে এই কঠোর নিয়ম থাকা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত প্রথম কিস্তির অর্থ জমা দেয়নি দুই বড় ক্লাব—মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এবং কেরালা ব্লাস্টার্স। স
ময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও এই দুই ক্লাবের পক্ষ থেকে কোনও অর্থ জমা না পড়ায় পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে মোহনবাগানের মতো একটি শীর্ষ ক্লাবের এই দেরি নজর কাড়ে ফুটবল মহলে। তবে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বদলে ফেডারেশন কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে। মোহনবাগান এবং কেরালা ব্লাস্টার্স-এই দুই ক্লাবকে আরও একবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম কিস্তির ৩০ লাখ টাকা জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে আরও তিন দিন করা হয়েছে। নতুন করে জানানো হয়েছে, রবিবারের মধ্যে অর্থ জমা দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যেও টাকা জমা না পড়লে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা তৈরি হয়েছে।
মাঠের পারফরম্যান্সের দিক থেকে দুই ক্লাবের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট লিগ টেবিলে ভালো জায়গায় রয়েছে। ছয়টি ম্যাচ খেলে তারা ১৩ পয়েন্ট অর্জন করেছে এবং চারটি ম্যাচে জয় পেয়েছে। ফলে শিরোপা দৌড়ে তারা যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে কেরালা ব্লাস্টার্সের পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক। ছয়টি ম্যাচ খেলেও তারা এখনও কোনও জয় পায়নি।
মাত্র একটি পয়েন্ট নিয়ে তারা তালিকার একেবারে নিচের দিকে রয়েছে। এই আর্থিক জটিলতা ভবিষ্যতে লিগের স্থিতিশীলতার উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ক্লাবগুলির আর্থিক দায়িত্ববোধ এবং ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত, দুটোই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে, এই দুই ক্লাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা জমা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে কিনা, নাকি আরও বড় কোনও সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হবে তাদের।

