বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বঙ্গ ক্রিকেটে বিতর্ক যেন থামছেই না। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের আবহের মধ্যেই এবার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়ার (Abhishek Dalmiya) বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুললেন সিএবির প্রাক্তন সহ-সভাপতি ও এরিয়ান ক্লাবের সচিব সমর পাল। তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখে দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই অভিষেক ডালমিয়া সিএবির গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছিলেন।
সমর পালের অভিযোগ, ২০১৯ সালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হওয়ার পর সিএবির সভাপতির পদ শূন্য হয়ে যায়। সেই সময় তিনি সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এবং নিয়ম অনুযায়ী সভাপতির পদে তাঁরই দাবি সবচেয়ে জোরালো ছিল। তাঁর কথায়, অধিকাংশ সদস্যও তাঁকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পেরে তিনি পিছিয়ে পড়েন, কারণ অভিষেক ডালমিয়া তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের সভাপতি হওয়া নিশ্চিত করেছিলেন বলে তাঁর অভিযোগ।
শুধু সভাপতির পদ নয়, সচিব পদে অভিষেকের উত্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমর। তিনি দাবি করেছেন, ২০১৫ সালে জগমোহন ডালমিয়ার মৃত্যুর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই অভিষেক রাজনৈতিক মহলের সহায়তায় সিএবির সচিব হন। অথচ তার আগে তিনি সংস্থার কোনও গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য ছিলেন না কিংবা দীর্ঘদিন ধরে সিএবির প্রশাসনিক কাজে যুক্ত ছিলেন না। ফলে বহু অভিজ্ঞ ও দীর্ঘদিনের সংগঠক বঞ্চিত হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন সমর।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, অভিষেক ডালমিয়া টানা সাত বছর সিএবির শীর্ষ প্রশাসনে ছিলেন। প্রথমে চার বছর সচিব এবং পরে তিন বছর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সমরের দাবি, এই দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ তিনি তৎকালীন রাজ্য সরকারের আশীর্বাদেই পেয়েছিলেন। তাঁর মতে, আগের সরকারের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একজন ছিলেন অভিষেক।
সম্প্রতি ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে অভিষেক ডালমিয়া যে চিঠি দিয়েছেন এবং সমাজমাধ্যমে ময়দানের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, সেটিও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন সমর। তাঁর বক্তব্য, সেই অভিযোগগুলিতে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা বা ঘটনার উল্লেখ নেই। ফলে অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেছেন, লোধা কমিটির সুপারিশ কার্যকর হওয়ার পর বর্তমানে সিএবির প্রশাসনে অভিষেকের কোনও সাংগঠনিক পদ নেই। তাই এই ধরনের অভিযোগ তুলে তিনি অযথা বিতর্ক তৈরি করতে চাইছেন বলেই সমরের দাবি।
সমর আরও অভিযোগ করেছেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই অভিষেক ডালমিয়া সিএবির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সরব হয়েছেন। তাঁর মতে, এর মূল উদ্দেশ্য বর্তমান সরকারের কাছে সিএবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাব তৈরি করা। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সফল করার চেষ্টা চলছে।
সমর পালের এই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যের ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। যদিও অভিষেক ডালমিয়ার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে দুই পক্ষের এই সংঘাত আগামী দিনে আরও কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে বাংলা ক্রিকেট মহলের।


