তারাতলা উদ্ধারকারীদের সম্বর্ধনা ও আধুনিক সরঞ্জামে ২০০ কোটি বরাদ্দ সরকারের

তারাতলা বিপর্যয়ের পর উদ্ধারকাজে যুক্ত বিভিন্ন বাহিনীর অসাধারণ ভূমিকার স্বীকৃতি জানিয়ে শনিবার আলিপুর বডিগার্ড লাইনে এক বিশেষ সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত…

taratala-rescue-teams-felicitated-₹200-crore-sanctioned-for-advanced-tools

তারাতলা বিপর্যয়ের পর উদ্ধারকাজে যুক্ত বিভিন্ন বাহিনীর অসাধারণ ভূমিকার স্বীকৃতি জানিয়ে শনিবার আলিপুর বডিগার্ড লাইনে এক বিশেষ সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গবাসীর পক্ষ থেকে আপনাদের স্যালুট। আপনারা ১৭ জনের মূল্যবান জীবন বাঁচিয়েছেন।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া প্রতিটি বাহিনীর মানবিক ও পেশাদার দায়িত্ববোধের প্রশংসা।

আরও পড়ুন: জোড়াবাগানে হুড়মুড়িয়ে ভাঙল দোতলা বাড়ি, উদ্ধার বৃদ্ধা-সহ ৪

   

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আপনাদের জন্য ১৭ জনের প্রাণ বেঁচেছে।” (Suvendu Adhikari) এই একটি বাক্যেই তিনি তুলে ধরেন উদ্ধার অভিযানের গুরুত্ব এবং সাফল্য। বিপর্যয়ের মুহূর্তে যেভাবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়েছিল, তাতে বহু মানুষের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যতের বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন: ‘মরা মাছের মত চোখওয়ালা মূর্তিমান শয়তান!’ জ্যোতি বসু নিয়ে বিস্ফোরক তথাগত

অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হয় যে উদ্ধারকাজের আধুনিক যন্ত্রাংশ কেনার জন্য রাজ্য সরকার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত সরঞ্জাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই উদ্ধার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও দ্রুততর করতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। উন্নত যন্ত্রপাতি থাকলে ভবিষ্যতে আরও কম সময়ে এবং আরও নিরাপদভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এই সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে একসঙ্গে সম্মান জানানো হয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে। (Suvendu Adhikari) ভারতীয় সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, কলকাতা পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স, পিডব্লিউডি, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা, রেল বিভাগ, কলকাতা পৌরসভা বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, কলকাতা আর্মড পুলিশ এবং দমকল বিভাগকে তাদের অসামান্য ভূমিকার জন্য বিশেষভাবে সংবর্ধিত করা হয়। প্রতিটি বাহিনীই নিজেদের দক্ষতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

উদ্ধার অভিযানের সময় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়। একদিকে ধ্বংসস্তূপ সরানো, অন্যদিকে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া—এই দুই কাজই একসঙ্গে চলেছে। দমকল বিভাগের কর্মীরা আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে প্রবেশ করে উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন, আবার এনডিআরএফ ও সেনাবাহিনী ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়েছে। কলকাতা পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিপর্যয়ের সময় এই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগই প্রকৃত শক্তি। তিনি জানান, রাজ্য সরকার ভবিষ্যতে বিপর্যয় মোকাবিলার কাঠামোকে আরও আধুনিক করতে চায়। সেই লক্ষ্যে শুধু যন্ত্রপাতি নয়, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। ২০০ কোটি টাকার এই বরাদ্দ সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন