চিন তার মানব মহাকাশ কর্মসূচির জন্য দুজন পাকিস্তানি মহাকাশচারীকে নির্বাচিত করেছে। এই দুজন হলেন মুহাম্মদ জিশান আলী ও খুররাম দাউদ। তাদের মধ্যে একজন এ বছর পেলোড বিশেষজ্ঞ হিসেবে চিনা দলের সঙ্গে যাবেন এবং চিনের তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানো প্রথম বিদেশি মহাকাশচারী হবেন।
চিনা মহাকাশ সংস্থার মতে, উভয় মহাকাশচারী প্রশিক্ষণের জন্য বেইজিং যাবেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির ফলস্বরূপ তাদের নির্বাচন করা হয়েছে। এই চুক্তি অনুসারে, পাকিস্তানি মহাকাশচারীরা চিনা মহাকাশ অভিযানে অংশ নিতে পারবেন। চিন এটিকে তার মহাকাশ কর্মসূচির জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছে।
Two Pakistani candidates Muhammad Zeeshan Ali and Khurram Daud have been selected as the first foreign astronauts to train for China’s space station missions, the China Manned Space Agency announced on Wednesday. #XinhuaNews pic.twitter.com/z4cuKlIvNR
— China Xinhua News (@XHNews) April 22, 2026
চিন পাকিস্তানি স্যাটেলাইটও উৎক্ষেপণ করেছে
এর আগে, চিন পাকিস্তানের জন্য রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইটসহ বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। এছাড়াও, চিন ২০২৮ সালে চ্যাং’ই-৮ অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁদে একটি পাকিস্তানি রোভার পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। চীন আরও জানিয়েছে যে, তারা অন্যান্য দেশের মহাকাশচারীদের তাদের মহাকাশ স্টেশনে গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর অনুমতি দেবে।
পাকিস্তান এই পদক্ষেপকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। উভয় মহাকাশচারী উন্নত প্রশিক্ষণ শুরু করতে শীঘ্রই চিনে যাবেন। এই ঘটনাটি কেবল একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নয়। এই প্রথম চীন তার তিয়াংগং মহাকাশ কেন্দ্রে বিদেশি নাগরিকদের প্রশিক্ষণ দেবে। চিন বলছে, এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি ভালো উদাহরণ।
চিনের এই মহাকাশ কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ চার বছর আগে সম্পন্ন হয়েছিল
চিনের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন ২০২২ সালে সম্পন্ন হয়েছিল। ২০১১ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনকে নাসার সাথে কাজ করতে বাধা দেয়। এর পরে, চিন তার নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তৈরি করে। বর্তমানে, বিশ্বে দুটি বৃহৎ মহাকাশ স্টেশন চালু রয়েছে: চিনের তিয়াংগং এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, যা ২০৩০ সালের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়ার কথা রয়েছে।
তাদের মহাকাশ স্টেশনে পাকিস্তানি নভোচারীদের অন্তর্ভুক্তি বিশ্বের কাছে নিজেদের মহাকাশ স্টেশনকে একটি বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করার চিনের আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দেয়। চিন দেখাতে চায় যে তাদের মহাকাশ কর্মসূচি উন্মুক্ত এবং তারা উন্নয়নশীল দেশগুলোর (গ্লোবাল সাউথ) সঙ্গে সহযোগিতা প্রসারিত করতে চায়।




















