Monster in Deep Space: একটি নক্ষত্র কি এতটাই নির্মম হতে পারে যে সে তার নিজের পরিবারেরই একটি গ্রহকে জীবন্ত গিলে ফেলে? বিষয়টি কোনো ভৌতিক সিনেমার গল্পের মতো মনে হতে পারে, কিন্তু মহাকাশবিজ্ঞানীরা ঠিক এমনই এক চমকপ্রদ ‘অপরাধের দৃশ্য’ আবিষ্কার করেছেন। পৃথিবী থেকে প্রায় ১,৩০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত সূর্যের মতো একটি নক্ষত্র তার নিজেরই একটি গ্রহকে আস্ত গিলে ফেলেছে।
বিজ্ঞানীরা এই ‘অপকর্মের’ জন্য দায়ী নক্ষত্রটিকে শনাক্ত করেছেন এবং এর মধ্যেই এমন সব প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন যা এই চুরির ঘটনাকে নিশ্চিতভাবে সত্য বলে প্রতিপন্ন করে। এই আবিষ্কারের পর বিশ্বজুড়ে মানুষের মনে এখন একটিই ভীতি দানা বেঁধেছে: আমাদের নিজেদের সূর্যও কি কোনো একদিন ঠিক এভাবেই আমাদের এই শ্যামল-সবুজ পৃথিবীকে গ্রাস করে নেবে? আসুন, এই চমকপ্রদ গবেষণার বিস্তারিত ও নেপথ্যের কাহিনী জেনে নেওয়া যাক।
মহাকাশ-গোয়েন্দারা একটি নক্ষত্রের ‘হত্যাকাণ্ড’ উদ্ঘাটন করেছেন
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ব্রুক কোথন এবং তাঁর ১৪ সদস্যের একটি দল এই অনন্য আবিষ্কারটি করেছেন। মহাকাশে TOI-5882 নামের একটি নক্ষত্র নিয়ে গবেষণার সময় বিজ্ঞানীরা সেখানে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেন। আসলে, এই নক্ষত্রটি সম্প্রতি তার একটি গ্রহকে গ্রাস করে ফেলেছিল। কোনো নক্ষত্রের গ্রহ গ্রাস করার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা জ্যোতির্বিদদের জন্য প্রায় অসম্ভব একটি বিষয়; কারণ মহাজাগতিক সময়ের হিসেবে চোখের পলক ফেলার মতোই ক্ষণস্থায়ী—মাত্র কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যেই—এই ঘটনাটি ঘটে যায়। তাই এই রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীরা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতোই নক্ষত্রটির আলো বিশ্লেষণ করেছেন।
‘লিথিয়াম’ উন্মোচন করল তারকার গোপন রহস্য
সাধারণত নক্ষত্রে লিথিয়ামের পরিমাণ খুবই কম থাকে, অথচ গ্রহের মধ্যে তা প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা যখন স্পেকট্রোস্কোপি পদ্ধতি ব্যবহার করে TOI-5882 নক্ষত্রটির বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ করেন, তখন তাঁরা সেখানে অস্বাভাবিক মাত্রায় লিথিয়ামের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। অনুরূপ ৬২টি নক্ষত্রের সাথে তুলনা করে দেখা যায় যে, ওই ৯৭ শতাংশ নক্ষত্রের তুলনায় এই নক্ষত্রটিতে লিথিয়ামের পরিমাণ অনেক বেশি; যা নিশ্চিত করে যে, এটি সম্প্রতি একটি বিশাল গ্রহকে গ্রাস করেছে।



