আদিবাসী সম্প্রদায়ের ধনীদের করে ছাড় অব্যাহত রাখল সুপ্রিমকোর্ট

নয়াদিল্লি: ধনী আদিবাসীদেরও করমুক্তির সুবিধা অব্যাহত রাখল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সাতটি রাজ্যের নির্দিষ্ট উপজাতি অঞ্চলের তফসিলি উপজাতি (এসটি) সদস্যদের আয়কর ছাড়ের সুবিধা বাতিল করতে…

supreme-court-st-income-tax-exemption-tribal-areas-benefit-continues

নয়াদিল্লি: ধনী আদিবাসীদেরও করমুক্তির সুবিধা অব্যাহত রাখল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সাতটি রাজ্যের নির্দিষ্ট উপজাতি অঞ্চলের তফসিলি উপজাতি (এসটি) সদস্যদের আয়কর ছাড়ের সুবিধা বাতিল করতে অস্বীকার করেছে শীর্ষ আদালত। আবেদনকারীদের যুক্তি ছিল, এই সুবিধা এখন কোটিপতি ও উচ্চবিত্ত উপজাতিদেরও লাভবান করছে, যা মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

কিন্তু আদালত এই ছাড় বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ডসহ সাতটি রাজ্যের নির্দিষ্ট উপজাতি এলাকার বাসিন্দা তফসিলি উপজাতিরা আয়কর দিতে বাধ্য থাকবেন না। এই ছাড়ের আওতায় তাদের বেতন, ব্যবসা বা অন্যান্য আয়ের ওপর কর আরোপ করা যাবে না।

   

আরও দেখুনঃ পাক আক্রমণে বিধ্বস্ত আগানিস্তানকে ৫ টন জীবনদায়ী ওষুধ পাঠিয়ে মানবিকতার নজির মোদীর

আবেদনকারীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, স্বাধীনতার পর যখন এই ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তখন উপজাতি সম্প্রদায়গুলো পিছিয়ে ছিল। কিন্তু বর্তমানে অনেক উপজাতি ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী ও রাজনৈতিক নেতা কোটি কোটি টাকার মালিক। তাঁরা এই ছাড়ের সুবিধা নিয়ে বড় বড় সম্পত্তি গড়ে তুলছেন। ফলে সাধারণ করদাতাদের ওপর বোঝা বাড়ছে। আবেদনকারীদের মতে, এখন আর এই ছাড়ের যৌক্তিকতা নেই।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি মানেনি। আদালত মনে করে, উপজাতি এলাকাগুলোর সামাজিক-অর্থনৈতিক পিছিয়ে পড়া এখনও বিদ্যমান। এই ছাড় তাদের সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সুরক্ষা দেয়। হঠাৎ করে এই সুবিধা প্রত্যাহার করলে পুরো উপজাতি সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আদালত বলেছে, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।

উপজাতি সংগঠনগুলো এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের এক আদিবাসী নেতা বলেন, “এই ছাড় আমাদের অস্তিত্বের অংশ। আমরা এখনও মূলধারার উন্নয়ন থেকে অনেক দূরে। ধনী-গরিব সবাইকে এক করে দেখলে চলবে না।” অনেক সাধারণ উপজাতি পরিবার বলছেন, এই সুবিধার কারণে তাদের সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসা ও ছোট ব্যবসা চালাতে সুবিধা হয়।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এই ছাড়ের অপব্যবহার হচ্ছে। কিছু ধনী উপজাতি ব্যক্তি এই সুবিধা নিয়ে বড় বড় শহরে সম্পত্তি কিনছেন এবং কর ফাঁকি দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, ছাড় শুধুমাত্র নিচু আয়ের উপজাতিদের জন্য সীমিত করা উচিত।এই রায়ের ফলে সাত রাজ্যের উপজাতি অঞ্চলগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ী ও চাকুরিজীবীরা স্বস্তি পেয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সরকারকে এই নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।