নয়াদিল্লি, ১০ এপ্রিল: ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা যত বেড়েছে, ততই বেড়েছে অনলাইন জালিয়াতির ঘটনাও। (UPI transaction)গত বছর ডিজিটাল লেনদেন সংক্রান্ত প্রতারণায় দেশে ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ২২,০০০ কোটি টাকারও বেশি। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) একটি বড় পদক্ষেপের পরিকল্পনা নিয়েছে। আরবিআই বৃহস্পতিবার একটি আলোচনা পেপার প্রকাশ করে প্রস্তাব করেছে যে, ১০,০০০ টাকার বেশি অ্যাকাউন্ট-টু-অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার বিশেষ করে ইউপিআই-এর মাধ্যমে এক ঘণ্টা পর্যন্ত থামিয়ে রাখা হবে।
এই সময়ের মধ্যে গ্রাহক চাইলে লেনদেন বাতিল করতে পারবেন।এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হল প্রতারকদের মানসিক চাপের ফাঁদ থেকে মানুষকে বাঁচানো। প্রায়ই দেখা যায়, কোনো অজানা নম্বর থেকে ফোন এসে বলা হয় ‘আপনার অ্যাকাউন্টে সমস্যা হয়েছে, তাড়াতাড়ি টাকা ট্রান্সফার করুন’। ভয়ে বা তাড়াহুড়োয় মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে বড় অঙ্কের টাকা পাঠিয়ে দেন। একবার টাকা চলে গেলে ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
আরও দেখুনঃ পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের দুই মন্ত্রীকে তলব, চাপে প্রশাসন
আরবিআই-এর এই ‘কুলিং পিরিয়ড’ বা শীতলায়ন সময়কাল গ্রাহককে এক ঘণ্টা সময় দেবে নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য। এই সময়ে টাকা প্রেরকের অ্যাকাউন্ট থেকে অস্থায়ীভাবে ডেবিট হয়ে যাবে, কিন্তু প্রাপকের অ্যাকাউন্টে যাবে না।আরবিআই-এর আলোচনা পেপারে চারটি প্রধান প্রস্তাব রয়েছে। প্রথমত, ১০,০০০ টাকার ওপরের লেনদেনে এক ঘণ্টার বিলম্ব।
দ্বিতীয়ত, বয়স্ক নাগরিক এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা বিশেষ করে ৫০,০০০ টাকার ওপরের লেনদেনে অতিরিক্ত অথেনটিকেশন। তৃতীয়ত, সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের টাকা আসার ক্ষেত্রে কড়া নজরদারি। চতুর্থত, গ্রাহকদের জন্য একটি ‘কিল সুইচ’ যার মাধ্যমে এক ক্লিকেই সব ডিজিটাল পেমেন্ট বন্ধ করে দেওয়া যাবে।এই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ছোটখাটো লেনদেনে কোনো সমস্যা হবে না।
১০,০০০ টাকার নিচের ট্রান্সফার, মার্চেন্ট পেমেন্ট, ই-ম্যান্ডেট, এনএসিএইচ বা চেকের মাধ্যমে পেমেন্টে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। গ্রাহক চাইলে নির্দিষ্ট বিশ্বস্ত প্রাপকদের হোয়াইটলিস্ট করে এই বিলম্ব এড়াতে পারবেন। তবে বড় অঙ্কের ট্রান্সফারে একটু অসুবিধা হলেও নিরাপত্তার দিক থেকে এটি অনেক বেশি কার্যকর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




















