কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে সংঘাত আরও চরমে পৌঁছল। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাছে দলের জাতীয় কর্মসমিতির পৃথক তালিকা জমা দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। এর ফলে দলের নাম, প্রতীক ও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জোর আইনি লড়াই শুরু হল। (TMC leadership crisis Mamata Banerjee vs Ritabrata Banerjee)
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন তাঁদের সঙ্গে আছেন। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে প্রবীণ নেতা অরূপ রায়কে দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করেছেন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে তাঁরা দলের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ও আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান। অন্যদিকে, মমতা শিবির পালটা তালিকা দিয়ে জানিয়েছে, মমতাই দলের চেয়ারপার্সন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ সম্পাদক। তবে বিদ্রোহী অরূপ বিশ্বাসের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এই সংঘাতের জেরে দলের প্রায় ৬৭৬ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে ফ্রিজ করা হয়েছে। বিদ্রোহী নেতা তথা প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের আবেদনের ভিত্তিতে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক লেনদেনের ওপর এই স্থগিতাদেশ জারি করে।
নির্বাচন কমিশন বিবাদের মীমাংসায় সুপ্রিম কোর্টের ‘টু-উইং টেস্ট’ প্রয়োগ করতে পারে, যেখানে দলের সাংগঠনিক ও পরিষদীয় স্তরের সমর্থন খতিয়ে দেখা হবে। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তাদের পক্ষে ৮১% বিধায়ক এবং ৭১% লোকসভা সাংসদের সমর্থন রয়েছে। ইতিমধ্যেই ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
বিধানসভাতেও টানাপোড়েন অব্যাহত। স্পিকার ইতিমধ্যেই ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ককে প্রধান বিরোধী দল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিয়েছেন। যতদিন না কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, ততদিন দলের প্রতীক সাময়িকভাবে স্থগিত হতে পারে বলে অনুমান। আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ২৮ জুলাই।



