বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের (Lok Sabha) অন্দরের টানাপোড়েন নতুন নয়। তবে গত কয়েকদিন ধরে যে জল্পনা রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে, তা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশ্ন উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মতো কি লোকসভাতেও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের মধ্যে কার্যত দুই শিবিরের ছবি সামনে আসতে চলেছে? রবিবার রাত পর্যন্ত পরিস্থিতি যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাতে দলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা এখনও সেই চূড়ান্ত পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন জোগাড় করতে পারেননি।
রাজনৈতিক সূত্রে খবর, রবিবার তৃণমূলের (Lok Sabha) একাংশ সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে জোর জল্পনা ছড়িয়েছিল। সেই সাক্ষাতের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে দাবি জানাতে পারেন বলেও আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু দিনশেষে সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি। (Lok Sabha) কারণ, দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতা এড়িয়ে কোনও সাংসদ গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি পেতে হলে নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। সেই সংখ্যার অঙ্ক এখনও মেলেনি বলেই জানা যাচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝেই তৃণমূলের (Lok Sabha) শীর্ষ নেতৃত্ব সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দলের লোকসভার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার দিল্লিতে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে রবিবার রাজধানীতে পৌঁছেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফর শুধুমাত্র জোট রাজনীতির জন্য নয়, দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় সূত্রের দাবি, গত কয়েকদিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে একাধিক সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ফোনে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং দল ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তৃণমূল নেতৃত্বের বিশ্বাস, দলের অধিকাংশ সাংসদ এখনও নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখছেন। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী সাংসদদের পাশাপাশি আরও প্রায় ১৩ জন সাংসদ দলের সঙ্গেই রয়েছেন বলে শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে।
অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ শিবিরও তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছেছেন লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এছাড়াও রাজধানীতে পৌঁছেছেন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। আরও কয়েকজন অসন্তুষ্ট সাংসদ আগেই দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বেই বিক্ষুব্ধ সাংসদরা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ বাস্তব রূপ পায়নি।




















