‘পুরা খতম!’ মমতাকে কটাক্ষ করে বিস্ফোরক শুভেন্দু

ভোট গণনার মাঝে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ উঠছে (Suvendu Adhikari)বুথ দখল, ভোট লুট, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এমন নানা দাবি করে দলীয় নেতারা চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছেন। ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
suvendu-adhikari-attacks-mamata-banerjee-counting-controversy-2026

ভোট গণনার মাঝে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ উঠছে (Suvendu Adhikari)বুথ দখল, ভোট লুট, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এমন নানা দাবি করে দলীয় নেতারা চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ও নন্দীগ্রাম-ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী সেই অভিযোগগুলোকে একেবারে উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, “রোন দিজিয়ে। খতম পুরা খতম” এই দুটি বাক্যই যেন আজ রাজ্য রাজনীতিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

নন্দীগ্রামে ৭০০০-র বেশি ভোটে এগিয়ে থাকা শুভেন্দু ভবানীপুরেও দুই হাজারের বেশি ভোটের লিড ধরে রেখেছেন। এই দুই কেন্দ্রে তাঁর এগিয়ে যাওয়া তৃণমূল শিবিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তৃণমূল নেতারা যখন ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, ঠিক তখনই শুভেন্দুর এই মন্তব্য এসেছে। তাঁর কথায় স্পষ্ট আত্মবিশ্বাস ও প্রত্যাখ্যানের সুর। “ওরা কাঁদুক, শেষ হয়ে গেছে সব,” এই বার্তা যেন বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জুগিয়েছে।

   

আরও দেখুনঃভোটগণনার শুরুতেই সোনারপুরে এগিয়ে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়

নন্দীগ্রামের মাঠে-ঘাটে আজ উৎসবের আমেজ। শুভেন্দুর সমর্থকরা রাস্তায় নেমে শাঁখ বাজাচ্ছেন, ফুল ছড়াচ্ছেন। এক স্থানীয় চাষি বললেন, “দাদা যেভাবে লড়াই করছেন, সেটা আমাদের লড়াই। ওরা যতই অভিযোগ করুক, মানুষের রায় তো স্পষ্ট।” নন্দীগ্রামের মাটিতে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা যে কতটা গভীর, সেটা এই লিড দেখেই বোঝা যাচ্ছে। একসময় যে এলাকায় তিনি তৃণমূলের হয়ে জমি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সেখান থেকেই আজ তিনি বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে।

এটা শুধু ভোটের লড়াই নয়, অনেকের কাছে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের গল্প।ভবানীপুরেও ছবিটা একইরকম। দক্ষিণ কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রে শুভেন্দুর এগিয়ে থাকা তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা। সেখানেও তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠছে, আর শুভেন্দু সেই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ঝাঁঝ দেখিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মন্তব্য শুধু একটা প্রতিক্রিয়া নয়, বরং বিরোধী শিবিরের নতুন আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ।

শুভেন্দু অধিকারীকে এখন অনেকেই বাংলার বিরোধী রাজনীতির মুখ হিসেবে দেখছেন। ঝাড়গ্রাম, নন্দীগ্রাম, ভবানীপুর তিন কেন্দ্রেই বিজেপির শক্ত অবস্থান দেখে দলের অন্দরে উৎসাহ বেড়েছে।তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অবশ্য এখনও দাবি করছেন যে গণনায় অনিয়ম হয়েছে। দলের একাধিক মুখপাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ও সংবাদমাধ্যমে বলছেন, “আমরা প্রমাণ সহকারে অভিযোগ জানাব।” কিন্তু শুভেন্দুর “খতম পুরা খতম” মন্তব্যের পর তৃণমূল শিবিরে কিছুটা চুপচাপ ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।

দলীয় কর্মীদের মধ্যে হতাশা স্পষ্ট। একজন তৃণমূল সমর্থক নাম প্রকাশ না করে বললেন, “অভিযোগ করে কী হবে? মানুষ যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে তো শেষ।”রাজ্যজুড়ে এখন দুই শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, তৃণমূল হেরে গিয়ে অজুহাত খুঁজছে। অন্যদিকে তৃণমূল বলছে, গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ মন্তব্য দুই পক্ষের মধ্যে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google